কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী। সোমবার চাকরিহারাদের সংগঠনের সভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম রায়ের পরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে SSC কি এই চোখের জলের দায় এড়াতে পারে? রাজ্য সরকার কি দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে? চাকরিহারাদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।
এদিন নেতাজি ইন্দোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'জেনেশুনে কারও চাকরি খাইনি। আমি চাকরি দিয়েছি, কাজ করতে গেলে একটা-দুটো ভুল হয়। বিকাশ ভট্টাচার্যকে আইসোলেট করা উচিত। যোগ্য প্রার্থীদের কারও চাকরি যেতে দেব না। শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে একটা চক্রান্ত চলছে। এই রায়ের পিছনে খেলা কার? কে খেলেছে?'
মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, 'আমাদের হৃদয় পাথর নয়। জেলে ভরে দিলেও, আই ডোন্ট কেয়ার। সবার অস্মিতা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ব আমরা অস্বীকার করতে পারি না। ২০২২ থেকে নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। যাত্রাপালার মাধ্যমে ভুল বোঝানো হচ্ছে। যাঁরা চাকরি কেড়ে নেয় তাঁদের ধিক্কার'।
এছাড়াও মমতা বলেছেন, 'বিকাশ ভট্টাচার্যকে আইসোলেট করা উচিত। যোগ্য প্রার্থীদের কারও চাকরি যেতে দেব না। শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে একটা চক্রান্ত চলছে। এই রায়ের পিছনে খেলা কার? কে খেলেছে অভিষেক সিংভি, কপিল সিব্বল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের বলেছি, আইনি লড়াই লড়তে। কোর্টের কাছে জানতে চাইব, চাকরিরত শিক্ষকদের ছাড়া কী করে স্কুল চলবে? যদি শিক্ষকদের চাকরি না থাকে, তখন কী করব তা মাথায় আছে। এই যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি কোনওভাবেই যাবে না। কেউ স্কুলে যেতে বারণ করেনি, শিক্ষকরা স্কুলে যান। চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য যা করার, তা আইনের মধ্যে থেকেই করব'।
এদিকে, নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর। তার মধ্যেই আজ ’কালীঘাট চলো’র ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চা। এক্সাইড মোড় থেকে কালীঘাটে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। মিছিলের নেতৃত্বে লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ। অশান্তি এড়াতে পুলিশে ছয়লাপ এক্সাইড মোড়।