কলকাতা : আগামী ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ফের SIR নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তিনি। মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'আগেও চিঠি লিখেছি, একাধিক সমস্যার কথা জানিয়েছি। SIR চলাকালীন এ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ৮১০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এই প্রথম মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। আইন তৈরি ছাড়া এই ধরনের মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে পারে না কমিশন। অন্য় কোনও রাজ্য়ে এই ধরনের মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়নি।'
SIR-এর শুনানি ঘিরে উঠে আসছে চূড়ান্ত হয়রানির বিভিন্ন ছবি। কোথাও অশক্ত শরীরে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে বয়স্কদের, আসছেন বিশেষভাবে সক্ষমরাও। কোথাও আবার রুজি-রোজগার ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াতে হয়েছে লাইনে। সাধারণ মানুষের এই হয়রানির মধ্যে শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন নেতা-মন্ত্রীদের মতো VVIP-রাও। মানুষের এই হয়রানি নিয়ে বারবার সরব হচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। SIR নিয়ে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী এর আগে চিঠি লিখে SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়ারও দাবি করেছিলেন তিনি ! এই আবহে সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে, ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে ষষ্ঠবার। রাজধানীতে পা রাখার আগেই SIR নিয়ে সুর সপ্তমে চড়ালেন মুখ্য়মন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে এদিন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কয়েকজন মাইক্রো অবজার্ভার CEO অফিসে বসে আইনি অনুমোদন ছাড়াই ECI পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ করছেন। SIR প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছেন তাঁরা। SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উথালপাথালের মধ্যেই সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। তার আগে SIR প্রক্রিয়ায় BLO ও অন্যান্য পদে নিযুক্তদের পরীক্ষার দিনগুলিতে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্র মারফৎ জানা গেছে, এই বিষয় জেলা শাসকরা চাইলে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে CEO দফতরের কোনও ভূমিকা নেই।
