অনির্বাণ বিশ্বাস, হুগলি : ভোট এলেই সিঙ্গুরের কথা মনে পড়ে সব রাজনৈতিক দলের ! কিছুদিন আগেই সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৮ জানুয়ারি সেখানে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ বছর পর রাজ্য রাজনীতিতে আবার শিরোনামে সিঙ্গুর। কিন্তু বিচারের আশায় আজও দিন গুনে চলেছেন সিঙ্গুরের তাপসী মালিকের পরিবার। সেই তাপসী মালিক...২০০৬ সালে টাটাদের ন্যানো কারখানার জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে জমি আন্দোলন। সেই আন্দোলনে সিঙ্গুরের কিশোরী তাপসীও শামিল হয়। অভিযোগ, সেই রোষেই তাপসীকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে তৎকালীন শাসকদলের মদতপুষ্টরা। 

Continues below advertisement

তারপর ২০ টা বছর চলে গিয়েছে। কিন্তু আজও অপেক্ষায় সেই তাপসীর বাবা। কবে মিলবে সুবিচার? সামনে আরও একটা ভোট! তা নিয়ে কী ভাবছেন তাপসী মালিকের বাবা? সন্ধান নিল এবিপি আনন্দ। 

এখনও সেই কিশোরী বয়সে খুন হওয়া মেয়েটার মূর্তির সামনে বসেন মনোরঞ্জন মালিক, তাপসী মালিকের বাবা। প্রশ্ন রাখেন, ভোট মিটলে কি কেউ কথা রাখে? ভুরি ভুরি আশ্বাস.. প্রতিশ্রুতি মেলে... কিন্তু বাস্তবে কি তার সিকিভাগও হয়? ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর।  এই দিনটাতেই নিজের মেয়ের ঝলসে যাওয়া দেহ দেখতে হয়েছিল অসহায় বাবাকে। তারপর কেটে গেছে ২০টা বছর। চোখের জল শুকিয়েছে। কিন্তু মনের ক্ষতে প্রলেপ পড়েনি। বিচারের আশায় আজও দিন গুনে চলেছেন সিঙ্গুরের তাপসী মালিকের বাবা। ভোট আসে , ভোট যায়...আর তাপসীর বাবা মনোরঞ্জন বলেন, কই বিচার তো পেলাম না!   

Continues below advertisement

২০০৬-এর ১৮ ডিসেম্বর, সিঙ্গুরে টাটাদের প্রস্তাবিত কারখানার জমিতেই উদ্ধার হয়েছিল আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত তাপসী মালিকের দগ্ধ দেহ, যা নিয়ে প্রতিবাদ সপ্তমে নিয়ে যায় তৃণমূল। সিঙ্গুরের  জমি আন্দোলন আর তাপসী মালিক খুনের প্রতিবাদ মিলেমিশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গড়ার পথ প্রশস্ত করে। এরপর সরস্বতী নদী দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল। টাটারা কারখানা সরাতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষমতা থেকে সরতে হয়েছে বামেদের। মসনদে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরও আরও কত ভোট এসেছে, গেছে। কিন্তু বিচার পাননি তাপসী মালিক। 

কী হল তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত? এই মামলায় সিপিএম নেতা সুহৃদ দত্ত ও সিপিএম কর্মী দেবু মালিক গ্রেফতার হলেও, পরে হাইকোর্ট থেকে তাঁরা জামিন পান। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে সুহৃদ দত্তের। কিন্তু সেই মামলা আজও ঝুলে রয়েছে। এর মাঝে লোকসভা-বিধানসভা মিলিয়ে বহু ভোট এসেছে-গিয়ছে। তাপসীর মূর্তি বসেছে, তাতে মৃত্যুদিনে মালা পড়ে আর অন্য সময় ধুলো। আর কী কোনওদিন তাপসী বিচার পাবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরে পা-রাখার আগে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে সেই প্রশ্ন।