কলকাতা : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার হেঁশেলে ! কলকাতা থেকে জেলা, LPG নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। মিলছে না গ্যাস। ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে লাইন। অনলাইন বুকিংয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাল জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিপি আনন্দর সম্পাদক সুমন দে-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেকথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি সংকটজনক এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের সমালোচনা করলেন তিনি।

সুমন দে : একটা অভূতপূর্ব পরিস্থিতি দেশে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গেও অবশ্যই হয়েছে, সেটা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জন্য জ্বালানি সংকট! পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু, তার আগে সমস্যাটা দেখা দিয়েছে সেটা হচ্ছে গ্যাসের সংকট। আমরা এই আলোচনাটি যদি কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিই, তাহলে নিঃসন্দেহে বাচ্চাদের কথায় আগে আসব। মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে বহু স্কুলে। ভাত-ডাল বন্ধ করে শুধু ডিম দেওয়া হচ্ছে। একদিকে শিশুরা, অন্যদিকে হস্টেলের ছেলে-মেয়েরা...যেখানে বাণিজ্যিক গ্যাসে রান্না করতে হয়...বাণিজ্যিক গ্যাস অমিল, তাদের কিছু করার নেই। একটা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথম প্রশ্ন, বাচ্চার স্কুল এবং মিড ডে মিল নিয়ে....

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : দেখুন আমি আপনাদের বলি, আমি সকাল থেকে এই নিয়েই আলোচনাই আছি। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। কাল আর্জেন্ট মিটিংও ডেকেছি সব ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে। কিন্তু কথা হচ্ছে, গ্যাসটা আমাদের হাতে নেই। গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণটা কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেখে। এটা আপনারাও জানেন। 

সুমন দে : কাল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫ জারি হয়েছে। যার ফলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে...

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। এটা বরঞ্চ আগে থেকে যদি সরকার বলে দেয় যে, ২৫ দিন আপনাকে সময় লাগবে টু অ্যাপ্লাই ফর আ গ্যাস...গ্যাসের জন্য অ্যাপ্লাই করতে আপনার ২৫দিন সময় লাগবে...তাহলে যারা সুবিধাবাদী লোক, কিছু আছে এই সমাজে, সবাই নয়...তাঁরা তো এই সুযোগ নেবেনই। তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। 

সুমন দে : আপনি বলছেন এইজন্য কালোবাজারি হয়েছে ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : কালোবাজারি হয়েছে আমি এখনও বলছি না। তার কারণ হচ্ছে, সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এটা অ্যালাও করেছে। তাদের প্রথমে বোঝা উচিত ছিল যে তোমার মজুত ভাণ্ডার কত আছে। গ্যাসের মজুত ভাণ্ডার নেই কেন ? প্রত্যেকটা পেট্রোল পাম্পে দেখবেন, নরেন্দ্র মোদির ছবি থাকে। আপনি ছবি দিয়ে প্রচার করছেন, আর আপনি যখন জানেন পেট্রোলিয়ামের সংকট হচ্ছে, আপনি রাশিয়ায় যাচ্ছেন কিনতে আমেরিকার মাধ্যমে...কিন্তু যখন দেশে গ্যাসের সংকট হচ্ছে, গ্যাস মানে মানুষের ঘরকন্যা। গ্যাস মানে হোটেল-রেস্তোরাঁ, গ্যাস মানে যারা পরিবহন চালায়। সবকিছু নির্ভর করে। আমার কথা হচ্ছে, আপনি একটা যথাযথ পরিকল্পনা না করে আগেই হট করে ঘোষণা করে দিলেন...২৫ দিন আগে গ্যাস পাওয়া যাবে না। ২৫ দিন আগে গ্যাস পাওয়া যাবে না বলার আগে জণগনকে তো সাতদিন সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। যে, সাতদিনের মধ্যে গ্যাস কিনে রাখুন। সেটা না করে হঠাৎ যদি সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, এখন তুমি ESMA জারি করেছ। ESMA জারি করে কী করবে, যাকে তোমার পছন্দ নয় তাকে তুমি গ্রেফতার করবে। কিন্তু, তাতে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে ? হবে না।