কলকাতা: মেজাজ হারালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সপাটে চড় কষিয়ে দিলেন। বাড়ির সামনেই একজনকে চড় মারলেন তিনি। বিজেপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বাড়ির সামনে সেই সময় প্রচুর লোক, ঝামেলা চলছে। সকলকে সরাতে এগিয়ে আসেন মমতা। আর সেখানেই একজনকে চড় মারেন। তবে কাকে চড় মারলেন মমতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। (Mamata Banerjee News)

Continues below advertisement

আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বুধবার শহরে মিছিল বেরোয় 'কালীঘাট তৃণমূলে'র। সেই মিছিল ঘিরে ব্যাপক অশান্তি, বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনেও পরিস্থিতি তেতে ওঠে। সেই সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নামেন মমতা। দুই হাতে সকলকে সরতে ইঙ্গিত করেন। কিন্তু তার পরও চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল। ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই সরতে চাননি। আরও বহু মানুষজন ছিলেন। সেই সময়ই একজনকে চড় মারেন মমতা। (Mamata Banertjee Slaps Man)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: ‘অনেক নোংরামো দেখিছি, করেনি বলতে পারছি না’, মুখ খুললেন বারুইপুরে এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের স্ত্রী

হাইকোর্টের নির্দেশে কালীঘাট-তৃণমূলের মিছিল ঘিরে এদিন তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি ছিল। বারুইপুরের নিহত নির্যাতিতার প্রতীকী দেহ হাতে নিয়ে মিছিল শুরু হতেই স্লোগান, পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। বিজেপি-র তরফে পথ আটকানো হয়। ওঠে 'চোর' 'চোর' স্লোগান। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি, মারামারিও শুরু হয়। একজনকে গাড়ির বনেটে ফেলে মারতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। তাদের নিরস্ত করতে লাঠি হাতে ছুটে যায় পুলিশ।  তৃণমূলের দাবি, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি তাদের পথ আটকায়। 

মমতা এদিন বলেন, "আইন কোথায়? নৈরাজ্য চলছে। উত্তরপ্রদেশেরও বাড়া। পুলিশ জানে আদালতের অনুমতি আছে। তার পরও আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন হল কী করে? নিরাপত্তা দিতে পারছেন না, বর্বরতা চলছে আমাদের কর্মীদের উপর। আমরা ধিক্কার জানাই। আদালত অবমাননার মামলা করব।"

আরও পড়ুন: ডিম্যান্ড আছে, কেনার ক্ষমতা নেই, হাউজিং মার্কেটে পতন, বিলাসবহুল টাওয়ারের ভিড়ে মধ্যবিত্তের কি আর নিজের বাড়ি হবে না?

সেই আবহেই এদিন হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিন্দায় সরব হন মমতা। আদালতের অনুমতি নিয়ে মিছিল কেন আটকানো হল, প্রশ্ন তোলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছে বলেও দাবি করেন। এমনকি তাঁর বাড়ির সামেন বিজেপি-র 'গুন্ডারা' ঘুরে বেড়াচ্ছে, চিৎকার করছে, ভয় দেখাচ্ছে বলেও দাবি করে। মমতা দাবি করেন, পরকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছে বিজেপি।

এই গোটা ঘটনায় মমতাকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, ক্ষমতা হারিয়ে মানসিক বিভ্রান্তিতে ভুগছেন মমতা। তাঁর আচরণকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। রাজ্যবাসী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, এই সত্য মমতা মানতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন সুকান্ত। অন্য দিকে, রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কটাক্ষ করেন মমতাকে। বলেন, "উনি রাজনৈতিক নেত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক দেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সরকার। সরকার কিছু বন্ধ করছে না, চাপিয়ে দিচ্ছে না, পুলিশের ব্যারিকেড নেই রাস্তায়। হাঁটছে হাঁটুক।  আর উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন! বসে যাবেন কেন? হাঁটুন। শরীরের জন্য, মনের জন্য ভাল। তৃণমূল নির্মূল হয়ে গিয়েছে। এখন তৃণমূলের দরজায় তালা লাগাচ্ছে, মানুষ ওদের মস্তিষ্কেই তালা লাগিয়ে দিয়েছে।" গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।