নয়াদিল্লি: মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকাকালীন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল। SIR নিয়ে দায়ের করা নিজের মামলায় নিজেই সওয়াল করলেন শীর্ষ আদালতে। বুধবার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিনও আদালতে নিজেই সওয়াল করতে পৌঁছবেন তিনি। SIR নিয়ে আর কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ভূমিকায় দেখা যায়নি। ফলে জাতীয় রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা। (Mamata Banerjee in Supreme Court)
আদালতে এদিন প্রধান বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন মমতা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। সওয়াল জবাব শেষে তিনি যখন আদালত থেকে বেরোচ্ছেন, বাইরে সেই সময় উপচে পড়া ভিড়। হাতে কাগজপত্র ছিল মমতার। সেই অবস্থাতেই নিয়েই সকলকে নমস্কার জানাতে জানাতে আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়িতে ওঠার আগেও চারিদিক থেকে তাঁকে ঘিরে ধরেন সকলে। (Mamata in Supreme Court)
ভিড়ের মধ্যে থেকে মমতাকে অভিনন্দন জানান অনেকেই। একজনকে বলতে শোনা যায়, "দিদি দারুণ হল, দারুণ। এটা বলতেই হবে।" কেউ কেউ 'জয় বাংলা' স্লোগানও তোলেন। হাতজোড় করে পাল্টা ধন্যবাদ জানান মমতা। কোনও মন্তব্য না করলেও হাসিমুখে, হাত তুলে অভিবাদন জানান। একজন নিজের বই উপহার দিতে চান। হাত বাড়িয়ে সেটিও গ্রহণ করেন মমতা।
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরোন মমতা। সকাল ১০.৩০-এর আগেই আদালতে পৌঁছে যান। মমতার আগমন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল আদালত চত্বরে। সেই অবস্থাতেই সেখানে পৌঁছন মমতা। মানুষের উদ্দেশে হাতজোড় করে নমস্কার করেই ভিতরে ঢুকে যান তিনি।
আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি ছিল। প্রথমে মমতার মামলা ৩৭ নম্বরে ছিল। কিন্তু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা তুলে আনা হয়। সুপ্রিম কোর্টের ডিসপ্লে বোর্ডে ১ থেকে ৫ নম্বরের পর, ৩৫ নম্বরের মামলা ছিল। তার পর ৬ থেকে ১৬ এবং ৩৬ ও ৩৭ নম্বর মামলার উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে ৩৭ নম্বর মামলাটিই মমতার দায়ের করা মামলা ছিল।
এদিন মমতা, কবি জয় গোস্বামী, দোলা সেনদের মামলার শুনানি হয় এক সঙ্গে। শুনানির শুরুতে আদালত কক্ষে পিছনের সারির বেঞ্চে বসেছিলেন মমতা। সওয়াল জবাব শুরু হওয়ার পর আইনজীবীদের সারিতে চলে আসেন। এর পর প্রধান বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে নিয়ে আসা মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান।
সামান্য নামের বানানে হেরফের ঘটলেই যেভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে, আদালতে এদিন সেই নিয়েয় সরব হন মমতা। নামের বানানে ছোটখাটো ভুল থাকলেই নাম বাদ দেওয়া যায় না, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলে দেওয়া যায় না বলে সওয়াল করেন। তাঁর যুক্তিতে কার্যতই সায় দেয় আদালত। অঞ্চল বিশেষে নামের উচ্চারণ এবং বানান ভিন্ন হতে পারে বলে জানান প্রধান বিচারপতিও। এর পরই বাংলা জানা অফিসারদের একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। আগামী সোমবারের মধ্যে রাজ্যকে তালিকাটি জমা দিতে বলা হয়, যাতে ওই অফিসারদের কাজে ব্যবহার করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
