অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া। তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদে ইস্তফা। 'সমাজসেবা, রাজনীতি করা মানুষরা মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে থাকবেন', তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদে ইস্তফা দিয়ে প্রতিক্রিয়া মানস ভুঁইয়ার। তৃণমূল সরকারের সেচমন্ত্রী ছিলেন মানস ভুঁইয়া। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, তিনি আজ থেকে, তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ পরিত্যাগ করেছেন। 

Continues below advertisement

তবে এর পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন যে, রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবেন, সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন আমৃত্যু। কিন্তু তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন। এখন এটাই দেখার মানস ভুঁইয়া তৃণমূল ছাড়ার পর কি তাঁর পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসে ফিরে যাবেন, নাকি যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। যদিও পরাজিত হন তিনি। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার তাঁর। একসময় কংগ্রেস করতেন তিনি। এরপর আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। মন্ত্রী হয়েছেন, গিয়েছে রাজ্যসভাতেও। 

Continues below advertisement

এবার বিদ্রোহী ব্লকে নাম লেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শতাব্দী রায়ের সঙ্গে গিয়ে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। বৈঠক করলেন অমিত শাহর সঙ্গেও। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদের সমালোচনায় সরব হলেন কুণাল ঘোষ থেকে দেবাংশু ভট্টাচার্য। ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই ভাঙছে তৃণমূল। একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শনিবারের এই ছবিটাই কি, তাঁকে সব থেকে বেশি নাড়িয়ে দিল?              

কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শতাব্দী রায়ের সঙ্গে গাড়িতে করে সোজা মোদি সরকারের হেভিওযেট মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সই করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায়। তারপর দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু যুগের সঙ্গী, বহু ওঠাপড়ার সাক্ষী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ।                 

শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, একাধিক গুরুতর অভিযোগ এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে 

তাপস রায়ের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তাপস রায় এখন শিল্পমন্ত্রী। আর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির হেভিওয়েট মন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠন করলেন। দেখা করলেন অমিত শাহর সঙ্গে। নাম লেখালেন বিদ্রোহীদের ব্লকে। রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব।