সন্দীপ সরকার ও কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সাহিত্যিক। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সাহিত্যিকের আসল নাম মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য-রচনা রয়েছে সাহিত্যিকের। Mani Shankar Mukherjee 

Continues below advertisement

এ মাসের গোড়ার দিকে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়কে। ফুসফুসে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি বয়সজনিত আরও কিছু শারীরিক সমস্যা তাঁর ছিল। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরেন। আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন। মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়েছিল তাঁর। তার পাশাপাশি সংক্রমণও রয়ে গিয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আজ কিছুক্ষণ আগে প্রয়াত হয়েছেন সাহিত্যিক। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাহিত্য মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একে একে হাসপাতালে আসতে শুরু করেছেন তাঁর গুণমুগ্ধরা। 

[tw]

Continues below advertisement

[/tw]

কার্যত বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের অবসান হল। অসংখ্য উপন্যাসের লেখক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। একের পর এক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ পাঠক-পাঠিকাদের উপহার দিয়েছেন সাহিত্যিক শংকর। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্মগুলি হল- 'চৌরঙ্গী', 'কত অজানারে', 'যেখানে যেমন', 'সম্রাট ও সুন্দরী', 'চরণ ছুঁয়ে যাই', 'জনঅরণ্য', 'সীমাবদ্ধ'। ২০২১ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল শংকরকে। এ প্রসঙ্গে সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার বলেন, "একটা যুগের অবসান হল। ওঁর চলে যাওয়া মানে একটা বিশাল জগৎ...যে জগৎকে উনি বাংলা সাহিত্যে এনেছিলেন...সাধারণত আমাদের দেখাশোনার যে জগৎ...তার বাইরের একটা জীবনকে উনি তুলে এনেছিলেন ওঁর অভিজ্ঞতা থেকে, ওঁর দেখা থেকে...বাংলা সাহিত্যে। উনি যখন সেগুলি লিখছেন, সেইসময় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরবর্তীকালও আমরা যতবার পড়েছি আমাদের ভাল লেগেছে। ওঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের মতো চলচিত্রকার ফিল্ম করেছেন। আমরা জানি যে শংকরের লেখনীর মধ্যে এমন একটা চমৎকার গতি ছিল...এমন একটা চমৎকার সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল...তিনি নগরজীবনকে এতটাই পর্যবেক্ষণে দেখেছিলেন যে বাংলা সাহিত্যে তাঁর কীর্তি অনেক। মানুষ হিসাবে আমি তাঁকে যতটা দেখেছি বা যতটা সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর সঙ্গে কথা বলার তাতে বুঝেছি যে উনি ভীষণ রসিক ছিলেন এবং ভীষণ মজার মজার কথা বলতেন। হেসে কথা বলতেন। তিনি যে একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেই গরিমাকে আড়ালে রেখে কথা বলেছেন। এটা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষনীয়। তাঁর প্রয়াণে সত্যি শোকাহত বোধ করছি।"