কলকাতা: বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ ও বিজেপি জোট শাসিত বিহার থেকে এরাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিতে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে ধরা পড়েছে এমনই ছবি। প্রায় ৯ বছর পর রাজ্যে হচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। কোচবিহার জেলার ৩০ টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী বসছেন এই পরীক্ষায়। এদিন সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্য়বস্থা। পুলিশসূত্রে খবর, প্রতি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন ১জন পুলিশ আধিকারিক ও ৪ জন করে পুলিশকর্মী।
আজ নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। প্রায় ৯ বছর পর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। নবম-দশমে শিক্ষকের শূন্যপদ: ২৩,২১২। পরীক্ষা কেন্দ্র: ৬৩৬, পরীক্ষার্থী: ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯অ্যাডমিট কার্ড ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ। মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ঢোকা যাবে না। এবার OMR শিটের কার্বন কপি দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীদের।
নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রবিবার নবম-দশম শ্রেণির জন্য পরীক্ষায় বসতে চলেছেন, যোগ্য চাকরিহারাদের পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। যদিও, পরীক্ষার আগে শেষবেলাতেও 'দাগি'দের প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্য়ান। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
দিনরাত এক করে খেটে, পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছিলেন! কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার! চলে গেছে হকের চাকরি! প্রতিবাদে নেমে খেতে হয়েছে লাথি, লাঠি। করতে হয়েছে অনশন। জাগতে হয়েছে রাত! কিন্তু তারপরও চাকরিহারাদের দাবি মেনে যোগ্যদের তালিকা দেয়নি স্কুল সার্ভিস কমিশন! সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ হয়ে গেছে রিভিউ পিটিশন। সেই চাকরি ফিরে পেতে, ফের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে রবিবার পরীক্ষায় বসবেন 'যোগ্য' চাকরিহারারা। প্রায় ৯ বছর পর আজ ফের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেবে স্কুল সার্ভিস কমিশন।
নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রবিবার নবম-দশম শ্রেণির জন্য পরীক্ষা হবে। ২৩ হাজার ২১২টি শূন্যপদের জন্য পরীক্ষায় বসতে চলেছেন, যোগ্য চাকরিহারাদের পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। একাদশ-দ্বাদশের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। যদিও, পরীক্ষার আগে শেষবেলাতেও 'দাগি'দের প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্য়ান। ২০২৪-এর ২২ এপ্রিল নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করে। ফলে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে চাকরি যায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের।
সেই রায় বহাল রেখে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল, পুরো প্যানেলই বাতিলের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। ১৭ এপ্রিল রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শুধুমাত্র যে শিক্ষকরা ‘দাগি’ বা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ নন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকল। আপাতত তাঁরা স্কুলে যেতে পারবেন ও বেতন পাবেন। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্য়ে নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে নতুন নিয়োগ শেষ করতে হবে।
সেই নির্দেশ মেনে রবিবার নবম-দশমের জন্য পরীক্ষা নেবে SSC. পরীক্ষার্থীদের X হ্য়ান্ডেলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিয়েছে তৃণমূল। অ্যাডমিট কার্ডে বারকোড ও প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নিয়ে একাধিক দাবি করেছে সকুল সার্ভিস কমিশন। কিন্তু, এতকিছুর পরও SSC-র চেয়ারম্য়ান 'দাগি'মুক্ত পরীক্ষা নিয়ে স্পষ্ট কিছু না বলায় প্রশ্ন উঠছে, বজ্র আঁটুনির মধ্যেই কি ফস্কা গেরো রয়ে গেল?