আবির দত্ত, সন্দীপ সরকার, পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা :  বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির ৬ তলা হোটেল যেন মৃত্যুকূপ। আগুনের জেরে এখনও পর্যন্ত দুই শিশু, এক মহিলা-সহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল ধোঁওয়ায় গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে হোটেল। আর তাতে দমবন্ধ হয়ে একের পর এক মৃত্যু ঘটেছে । হোটেলের বাসিন্দা বেশিরভাগ মানুষই ভিনরাজ্যে । এর মধ্যে ৮ জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছে ভিনরাজ্যের একাধিক পরিবারের শিশু ও বয়স্করা।

দমকলকর্মীদের মতে, মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল বড়বাজারের ৬ তলা ঋতুরাজ হোটেল। ইটের গাঁথনি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হোটেলের ঘরের সমস্ত জানলা। ফলে আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের হওয়ার উপায় ছিল না। কার্যত গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয় গোটা হোটেল। এতে ধোঁওয়ায় হাঁসফাঁশ করেই মারা যান এতগুলো মানুষ। বের হতে চেয়েও বের হতে পারেননি অনেকেই। ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন হয়ত। কিন্তু কোথায় পাবেন অক্সিজেন ? সবটাই তো ধোঁওয়ায় ভরা। তাই ঘরের মধ্যেই কেউ মারা গিয়েছেন। কারও দেহ পড়ে থেকেছে করিডোরে। কেউ ছুটে ছাদের উপরে উঠে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যেও একজন পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে পড়ে মারা যান। 

 মৃতদের মধ্যে দাদু, নাতি-নাতনি-সহ এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। হোটেলের ৩১৩ নম্বর ঘরে ছিলেন দাদু, নাতি-নাতনি।  দাদুর কাছে ৩ বছর ৮ মাসের মেয়ে আর ৮ বছরের ছেলেকে রেখে মা-বাবা শপিংয়ে যান। দুই ভাইবোনে মিলে পিজ্জা আর কেকে মজেছিল। বাইরে কখন আগুন লেগে যায় বুঝতেই পারেনি তারা। কুণ্ডলী পাকানো ধূম, ঢুকে আসে ঘরে। আর শ্বাস নিতে পারেনি দুই ভাই বোন। দাদুও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যান বাথরুমেই।  দুই শিশুর দেহ পাওয়া যায় বিছানায় আর দাদু শৌচাগারে পড়েছিলেন। 

৪১৯ নম্বর ঘরে ছিলেন ওড়িশার কটকের বাসিন্দা ৪১ বছরের রাজেশ সন্তুকা। টেক্সটাইল ব্যবসায়ী রাজেশ এর আগেও এই হোটেলে এসে থেকেছেন। কাপড় নিয়ে গতকালই রাত সাড়ে ৮টায় হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তার আগেই বিধ্বংসী আগুনে তাঁর মৃত্যু হয়। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা ২০ বছরের নীরজ কুমারের দেহও শনাক্ত করা হয়েছে। 

অথচ শ্যাম পাণ্ডের কী আশ্চর্য ভাগ্য। মুম্বইয়ের বাসিন্দা শ্যাম ৩০১ নম্বর ঘরে ছিলেন। যখন আগুন লাগে, তখন তিনি ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। ৪ ঘণ্টা পর দমকল গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। আগুনের গ্রাস থেকে কীভাবে বাঁচলেন তা নিজেও বুঝতে পারছেন না শ্যাম।