কলকাতা : বছরের শুরুতেই ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসে। কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম বেনজির নুর। দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে গিয়ে জয়রাম রমেশ ও শুভঙ্কর সরকারদের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন মৌসম। তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য তিনি। ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে তাঁর কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম। এদিন তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "পরিবারে ফিরে এলেন। এটা ট্রেলার দেখলেন। আমরা জানালা খুলে রেখেছিলাম। এখন দরজা খুলে দিলাম।"
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সংযোজন, "আজ যিনি যোগ দিলেন, তিনি আমাদের পরিবারে ছিলেন। তিনি আমাদের পরিবারে ফিরে এলেন। আমি শুধু এটুকুই বলব, আজকের দিনে বাংলায় যে কঠিন লড়াই, বিশেষ করে যখন ধর্মকে হাতিয়ার করে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে, যারা রাজ্য সরকারে আছে, যারা কেন্দ্রীয় সরকারে আছে...বিজেপি ওখানে সরকার বানাতে চায় না। ওখানে তারা এমন একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে যা করছে সেটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য কোনও উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুব কংগ্রেস করা লড়াকু নেত্রী, বরকত গণিখান চৌধুরীর আদর্শ নীতিতে বিশ্বাস করা একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে তাঁর কংগ্রেসে আসা নিশ্চিতভাবে শক্তিশালী করবে কংগ্রেসকে। এটা আপনারা ট্রেলার দেখলেন। আমরা জানালা খুলে রেখেছিলাম। এখন দরজা খুলে দিলাম।"
কী বললেন মৌসম ?
কংগ্রেসে ফিরে মৌসম বলেন, "আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য কংগ্রেস দলকে ধন্যবাদ জানাই। কংগ্রেস পরিবার ও গণি খান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য হিসাবে আমি সম্মানিত। আমরা উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করতে চাই। গণিখান চৌধুরীর উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের একতা দরকার। তাই, আমি কংগ্রেসে ফিরে এসেছি। ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছি। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতাদির কাছে আমার ইস্তফা পাঠিয়ে দিয়েছি। রাজ্যসভার ইস্তফাপত্রও তৈরি। সোমবার জমা দেব। আজ থেকে কংগ্রেসে যোগ দিলাম। কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করব। বাংলার মানুষ, মালদার মানুষ কংগ্রেসে বিশ্বাস করেন। কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা, উন্নয়ন ও শান্তির মতাদর্শে বিশ্বাস করেন। গণিখান চৌধুরীও তাতে বিশ্বাস করতেন।"
