নয়াদিল্লি : এমনই এক জানুয়ারিতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ছয় বছর পর 'ঘরওয়াপসি' হল মৌসম বেনজির নুরের। কিন্তু, ২০১৯ থেকে ২০২৫, এই সময়ের মধ্যে কী এমন হল যে তাঁকে শিবির পাল্টাতে হল। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দল পরিবর্তনের কারণ হিসাবে অবশ্য 'বরকত সাহেবের উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী' করার কথা বলছেন মৌসম।
কেন ছাড়লেন তৃণমূল ?
মৌসমের কথায়, "দল আমাকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে জেলা সভাপতিও করেছিল। এর বেশি কী দায়িত্ব দেবে, না দেবে সেটা তো তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপার। সেটা তো আমি ঠিক করতে পারি না। কিন্তু, কয়েক মাস ধরেই আমাদের পরিবারে একটা আলোচনা হচ্ছিল। আমারও মনে হচ্ছিল, আমি যে কারণে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম, বরকত সাহেবকে দেখে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল, আমার যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা। যেভাবে বরকত সাহেব সারাজীবন থেকেছিলেন। বরকত সাহেবের উত্তরাধিকার কংগ্রেসের উত্তরাধিকার। সেটা তো আমি অন্য দলে থেকে করতে পারব না। সেই কারণে আমরা পরিবার হিসাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা একসঙ্গে বরকত সাহেবের উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করব। কাজ করব। কংগ্রেসের উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করব।"
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের আমলে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। আপনার কি মনে হয় তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে মহিলারা সুরক্ষিত নন ? অন্য কোনও দলের আসা উচিত ?
মৌসম নুর : মহিলা সংরক্ষণ বিল কংগ্রেসই এনেছিল। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য কংগ্রেস প্রচুর কাজ করছে। নিশ্চিতভাবেই আমার মনে হচ্ছে, বাংলাতেই পরিবর্তন আসা দরকার। কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ, খোলা মনের দল। এখন কংগ্রেসে যোগ দিলাম। কংগ্রেসের জন্য প্রচারও শুরু করব। আমি চাই, বাংলায় পরিবর্তন আসুক। সেই পরিবর্তন আমার থেকে শুরু হোক।
আপনি কি বিধানসভা ভোটে লড়ার পরিকল্পনা করছেন ?
মৌসম নুর : কোনও শর্ত নিয়ে আমি আসিনি। আমি খোলা মনে এসেছি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে আমি বিশ্বাস করি। অতীতে আমাকে অনেক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে, আমার উপরও নেতৃত্বের পূর্ণ আস্থা আছে। যে দায়িত্বই আমাকে দেওয়া হবে, তা নিজের সেরাটা দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করব।
কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে গেলে প্রধান রাজনৈতিক শত্রু কারা হতে পারে ?
মৌসম নুর : কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার কাজটাই আমি করব। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যারা লড়বে, তারাই প্রধান বিরোধী হবে। কিন্তু, আমাদের কংগ্রেস প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, প্রধান বিরোধী বিজেপিই রয়েছে। বিজেপিই থাকবে।
