কলকাতা: হুমায়ুনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই জোট-প্রশ্নে মহম্মদ সেলিমের নিশানায় শুভঙ্কর সরকার। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিকে খােঁচা দিয়ে মন্তব্য করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। মহম্মদ সেলিম বলেন, ''অধীর চৌধুরী সভাপতি থাকাকালীন বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা হয়েছিল। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের তৃণমূলের প্রতি বেশি দরদ। শুভঙ্কর সরকার নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, AICC-র অপেক্ষায় রয়েছেন।'' সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক আরও বলেন, ''বিজেপি-তৃণমূলের পক্ষে না বামেদের সঙ্গে, সেটা কংগ্রেসকে ঠিক করতে হবে। আগে অবস্থান স্পষ্ট করুক কংগ্রেস, বামেরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করবে না।'' জোট নিয়ে কংগ্রেসকে কড়া বার্তা মহম্মদ সেলিমের।

Continues below advertisement

বুধবারই নিউটাউনের ওয়েস্ট ইন হোটেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্য়ান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেই বৈঠক থেকেই জোট নিয়ে একটা সম্ভাবনা আরও জোড়ালো হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গেই কি সিপিএম জোট বাঁধতে চলেছে? সেই প্রশ্নই বারবার উঠছে। আবার এখানে উঁকি দিচ্ছে কংগ্রেসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের জোটের সমীকরণও। ফের কি দুটো দল এক হয়ে লড়বে? যদিও মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য কিন্তু তেমন সম্ভাবনাকে কোনওভাবেই উসকে দিচ্ছে না।

বুধবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে যাচ্ছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেই সময় এবিপি আনন্দের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে জোট সম্ভাবনা কতটা? সেলিম বলেন, ''জোট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কী করতে চাইছেন, কী করবেন, তা জানতে চাইলাম। আসন সমঝোতা নিয়ে কথা হল। নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন। তাঁর লক্ষ্য কী? তিনি কী চান, তাঁর উদ্দেশ্য় কী, এগুলো তো বুঝতে হয়। জোট ওভাবে হয় না। আমাদের তো বামফ্রন্ট আছে। প্রস্তাব হচ্ছে আসল সমঝোতার। আমরা বামপন্থীরা নিজেরা আলোচনা করে নেব। আমরা আইএসএফের সঙ্গেও কথা বলা হবে। আমাদের আলোচনা তো আলিমুদ্দিনের টেবিলে হবে। এখানে নয়। আজ শুধু মন বোঝা হল।''

Continues below advertisement

কুণাল ঘোষ যদিও সমালোচনা করেছেন মহম্মদ সেলিমের, তিনি জানান, ''দেখুন অন্য যে দলগুলো যারা বাংলায় কার্যত অপ্রাসঙ্গিক। জনগনের সমর্থন যাঁদের সঙ্গে নেই, তারা কার সঙ্গে কারা বসছেন। বিজেপির অতি ব্যবহার করা কোন হোটেলে গিয়ে উঠছে, তাঁদের চায়ের বিলটাও বিজেপি দিয়েছে কি না, তার খোঁজ নিতে হবে। হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মহম্মদ সেলিম পুরো দেউলিয়া রাজনৈতিক ভিক্ষুকের মত ব্যবহার করছে।''