ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পর এবার এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে করলেন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বললেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিধানসভা এলাকায় যেতে হলে তাঁর অনুমতি নিয়েই যেতে হত। রচনার দাবি, ইন্দ্রনীল সেন যে এলাকার বিধায়ক ছিলেন, সেই চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে গেলে তাঁর অনুমতি নিয়েই যেতে হত। ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর এভাবেই বিস্ফোরক দাবি করছেন রাজনীতি ও শিল্পসংস্কৃতি জগতের একের পর এক মানুষ। বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে এসে রচনা বলেন, উনি আমার লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভার বিধায়ক থাকলেও বিশেষ চিনতাম না। এরপরই হুগলির সাংসদ দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সেন পছন্দ করতেন না বলে চন্দননগর যেতে পারিনি।
শুক্রবারই এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সন্তান, সুচেতন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'খুব আনন্দ হচ্ছে।' ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য় করলেন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সন্তান । বললেন, ইন্দ্রনীল সেন অত্য়ন্ত অসভ্য়। পাপের কৃতকর্ম উনি যেন ভোগ করেন। তিনি আরও বলেন, 'উনি হনু হয়ে ক্ষমতার একেবারে প্রায় শীর্ষে চলে গিয়ে, তৎকালীন শাসকদলের একেবারে উচ্চ পদে থেকে, অনেক লোকের সঙ্গে অনেক অন্য়ায় করেছেন। পাপের কৃতকর্ম উনি যেন ভোগ করেন। উনি অত্য়ন্ত অসভ্য়। '
এই ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেই রাজ্যে পালাবদলের পর ব্য়ান কালচারের অভিযোগে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেফতারির পর ফের মুখ খোলেন তিনি। তিনি বলেন, ' অন্য়ায়ের শাস্তি হয়েছে। আমি যেহেতু কর্মফলে বিশ্বাসী মানুষ যে যেটা করবে, তাঁকে সেই ফল এই জীবনে দিয়ে যেতে হবে। '
দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে! মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংসকৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে বুধবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তিনি পুলিশ হেফাজতে। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কলকাতা পুলিশ এবং ED দুই এজেন্সিই তদন্ত চালাচ্ছে। কলকাতা পুলিশ খতিয়ে দেখছে, পুজোর পাসের নামে কীভাবে টাকা তোলা হয়েছে? আর ED খতিয়ে দেখছে, সেই টাকা হাত ঘুরে কোথায় কোথায় গেছে? প্রসঙ্গত, এই তদন্তেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিবৃতিতে উঠে আসে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম !
