করুণাময় সিংহ, মালদা : অশান্ত মুর্শিদাবাদ থেকে এক কাপড়ে মালদায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে একাধিক পরিবার। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান থেকে মালদার বৈষ্ণবনগরের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। অভিযোগ, তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। জলে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের সহযোগিতায় কোনও রকমে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

এক মহিলা বলেন, "আমরা খুব দুঃখের মধ্যে এসেছি এখানে। আমাদের বাড়ি নেই, ঘর নেই। সংসারের যা জিনিস ছিল সব আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পেট্রোল লাগিয়ে দিয়েছে। বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। জলের ট্যাঙ্কে বিষ দিয়ে দিয়েছে। আমরা কী খাব ? কী করেই বা থাকব। কাল বিকালে এসেছি। আমাদের এখান থেকে নৌকা পাঠিয়েছিল। পুলিশে পৌঁছে দিয়ে গেছে।" 

অপর এক মহিলা বলেন, "ট্যাঙ্ক ভেঙে দিয়েছে। জলও খেতে দেয় না। চাল পাক মেরে দিয়েছে, মুড়ি পাক মেরে দিয়েছে, মুড়ি-বিস্কুট সব পাক মেরে দিয়েছে। সকাল থেকে তিনটে বাচ্চা না খেয়ে আছে। পরিবারের সবাই আমরা না খেয়ে আছি। এখানে এসে আহার পড়ল। ভয়ে পালিয়ে এসেছি। আমাদের ওখানে যত বাড়ি ছিল সব পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা বিএসএফ থাকতেই পালিয়ে এসেছি।"

এদিকে এখনও থমথমে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের রতনপুর এলাকা। ফাঁকা রাস্তা, বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় এখনও পড়ে আছে পুলিশের ভাঙা গাড়ি। আজ সকালে পুলিশের আশ্বাস মেলার পরে একটি ওষুধের দোকান খুলেছে। সেই দোকানেও গত পরশু ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। দোকান খুললেও আতঙ্কে রয়েছেন মালিক। এলাকায় একাধিক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে ধুলিয়ান বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর লুঠ চালানো হয়। আজ সেই দোকানই পরিষ্কার করার ছবি দেখা যায়। আজ সকাল থেকেই রাস্তায় রাস্তাট টহল দিচ্ছে বিএসএফ। রুটমার্চ করেছে পুলিশও। অন্যদিকে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বাড়িতে এখনও ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট। তালা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে বাড়িটি।

এরই মধ্যে গতকাল বিকেলে ফের সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ানে সামশের নাদাব নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পরিবারের দাবি, কোমরের কাছে গুলি লাগে তাঁর। তাঁকে রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন তিনি। কে বা কারা গুলি চালালো এখনও জানা যায়নি। পরিবারের লোকের দাবি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড়ি কাছে বেশ কিছুক্ষণ পড়েছিলেন যুবক। খোঁজ পাওর পরে প্রথমে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।