অরিত্রিক ভট্টাচার্য, বেলডাঙা : বেলডাঙায় নতুন করে অশান্তির জের। আপাতত লালগোলা সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ। ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার পরিযায়ী মৃত্যুর প্রতিবাদে বেলডাঙায় রেল অবরোধ, বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে RPF ও RPSF, জানালেন পূর্ব রেলের জিএম। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানালেন পূর্ব রেলের জিএম।

Continues below advertisement

ঘটনার বিস্তারিত...

ওই নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে রেল চালানোর ক্ষেত্রে একেবারেই নিরাপদ মনে করছে না পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই লেভেল ক্রসিং ভেঙে দেওয়া হয়েছে। লাইনের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরেও যদি এই অংশ দিয়ে ট্রেন চলাচল হয়, রেল পরিকাঠামো থেকে শুরু করে যাত্রী নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তারা মনে করছে। সেই কারণে কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা অর্থাৎ লালগোলা সেকশনে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই সেকশনে কোনও ট্রেন চলাচল করবে না। এমনই সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের। এদিকে ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কী ঘটেছে, কী সমস্যা হয়েছে, রেল চালানো কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে সে বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। পূর্ব রেলের জিএম সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। কলকাতা থেকে আরও বেশি সংখ্যায় মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে RPF ও RPSF যাতে রেল পরিকাঠামোর উপর এই বিক্ষোভের কোনও আঁচ না পড়ে। 

Continues below advertisement

ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। খুনের অভিযোগে গতকাল থেকে উত্তাল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। গতকাল টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় জাতীয় সড়ক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। এদিন ফের বেলডাঙায় অবরুদ্ধ করা হয় জাতীয় সড়ক। বড়ুয়ামোড়ে ফের পথ অবরোধ করলেন স্থানীয়রা। কাল রণক্ষেত্রের পর, আজ বেলডাঙায় পৌঁছে গেলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অবরোধ তুলতে বললেন বিক্ষোভকারীদের। কাল যা করার করেছেন, আজ আবার কীসের অবরোধ ? অবরোধ দেখে বললেন ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবীর।

এদিকে বেলডাঙায় আক্রান্ত হয়েছে এবিপি আনন্দ। এবিপি আনন্দর সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও ক্যামেরাপার্সন উজ্জ্বল ঘোষকে মারধর করল বিক্ষোভকারীরা। এদিন বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে অবরোধের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিরা। সেখানে পৌঁছান ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, অবরোধ তুলতে বলেন। সেই সময় সেখানে ছিল হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ। সেই সময়ই এবিপি আনন্দ-র সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের দিকে ধেয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য জবরদস্তি করতে থাকে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। এমনকী, পুলিশকে তোয়াক্কা না করে ইট তুলে এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিদের দিকে ইট তুলে ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজনা সামলাতে হিমশিম খায় হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ। কোনওরকমে একটি টোটোয় উঠে এলাকা ছাড়তে যান চিত্রসাংবাদিক। কিন্তু স্থানীয় ওই টোটোচালক তাঁকে টোটোয় তুলতে চাননি। তখন একটি বাইকে চড়ে এলাকা থেকে বেরোন চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ আশ্রয় নেন স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে হেনস্থা করে বিক্ষোভকারীরা। এরপর কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আরেকটি মোটরবাইকে করে এলাকা ছাড়েন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ।