পার্থপ্রতিম ঘোষ, বেলডাঙা : বেলডাঙায় অশান্তি চলাকালীন যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুর চালাল উত্তেজিত জনতা। ঘটনার জেরে চার যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ সকাল থেকে বেলডাঙা বড়ুয়ামোড় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাদ পড়েনি যাত্রীবাহী বাসও। কলকাতা থেকে বহরমপুরের দিকে আসছিল বাসটি। সেটির দিকে আচমকা ইট উড়ে আসে। বাসের সামনের কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনায় চার যাত্রী আহত হন। সেই সময় হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশকর্মী ছিলেন। বিক্ষুব্ধ জনতা কার্যত তাণ্ডব চালায় বড়ুয়ামোড়ে। রাস্তা অবরোধ করে। হোর্ডিং-ব্যানার নিয়ে এসে চরম বিক্ষোভ দেখায়।
গতকাল থেকে উত্তাল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় জাতীয় সড়ক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। এদিন ফের বেলডাঙায় অবরুদ্ধ করা হয় জাতীয় সড়ক। বড়ুয়ামোড়ে ফের পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। কিন্তু, পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে এদিন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল একটা বাহিনী এসে পৌঁছায় বড়ুয়ামোড়ে। এই বড়ুয়ামোড়েই দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে তাণ্ডব চালানো হচ্ছিল, সেই জায়গায় পুলিশ, ব়্যাফ ফোর্স পৌঁছায়। হাতে টিয়ার শেল নিয়ে। জমায়েত হটানো হয়। লাঠিচার্জ করে বরুয়ামোড়ে অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে একটা জমায়েত দেখতে পেয়ে বেলডাঙা স্টেশনের রেল ট্র্যাক ধরে টিয়ার শেল ও গার্ড নিয়ে এগিয়ে যায় লাঠিধারী পুলিশ ও ব়্যাফ। অবরোধকারীদের লাঠি হাতে তাড়া করতে দেখা যায় পুলিশকর্মীদের। পরে এলাকা শান্ত হয়ে যাওয়ায় বড়ুয়ামোড়-সহ আশপাশের এলাকায় রুটমার্চ করে পুলিশ। সঙ্গে চলে চিরুনি তল্লাশি।
এদিকে বেলডাঙায় আক্রান্ত হয়েছে এবিপি আনন্দ। এবিপি আনন্দর সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও ক্যামেরাপার্সন উজ্জ্বল ঘোষকে মারধর করল বিক্ষোভকারীরা। এদিন বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে অবরোধের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিরা। সেখানে পৌঁছান ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, অবরোধ তুলতে বলেন। সেই সময় সেখানে ছিল হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ। সেই সময়ই এবিপি আনন্দ-র সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের দিকে ধেয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য জবরদস্তি করতে থাকে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। এমনকী, পুলিশকে তোয়াক্কা না করে ইট তুলে এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিদের দিকে ইট তুলে ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজনা সামলাতে হিমশিম খায় হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ। কোনওরকমে একটি টোটোয় উঠে এলাকা ছাড়তে যান চিত্রসাংবাদিক। কিন্তু স্থানীয় ওই টোটোচালক তাঁকে টোটোয় তুলতে চাননি। তখন একটি বাইকে চড়ে এলাকা থেকে বেরোন চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ আশ্রয় নেন স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে হেনস্থা করে বিক্ষোভকারীরা। এরপর কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আরেকটি মোটরবাইকে করে এলাকা ছাড়েন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ।