রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সামশেরগঞ্জ : ওয়াকফ-বিক্ষোভে অশান্ত মুর্শিদাবাদ। ফের চলল গুলি ! সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে গুলিবিদ্ধ হলেন এক যুবক। নাম সামশের নাদাব । গুরুতর অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, কোমরের কাছে গুলি লাগে তাঁর।  কে বা কারা গুলি চালালো এখনও জানা যায়নি। 

বিস্তারিত...

গতকাল ফের সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ানে গুলি চলে। এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। এই মুহূর্তে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। পরিবারের লোকজন বলছেন, বিকাল নাগাদ এলাকায় একটা অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। তারপরে ওই যুবককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আধ ঘণ্টা পরে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রাতেই। তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ওই যুবক। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। তাঁর কোমরের কাছে গুলি লেগেছে। 

গুলিবিদ্ধের দাদা কাইফুল নাদাব বলেন, "কাল মোটামুটি ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ ওর সঙ্গে কথা বলি, কোথায় আছিস ? দু'বার আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আসছি আসছি করে আসেনি। আবার আটবার-ন'বার করে কল করছি আর কল ওঠাচ্ছে না। গুলি খেয়ে পড়ে আছে।"

অন্যদিকে থমথমে সুতি, সামশেরগঞ্জের একাধিক এলাকায় লাগাতার টহল দিচ্ছে পুলিশ ও বিএসএফ। একাধিক বাড়ির ছাদে জমে থাকা পাথর পরিষ্কার করছেন বিএসএফ জওয়ানরা। এখনও রাস্তার মাঝখানে ভাঙা গাড়ি পড়ে রয়েছে। পর পর দোকানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। একাধিক হোটেল ভেঙে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতি, সামশেরগঞ্জে এখনও সব দোকান বাজার বন্ধ রয়েছে। আরএসএসের কর্মীরা এলাকায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ভয়ঙ্কর হিংসার ঘটনা দেখে প্রাণভয় এখনও কাঁটা হয়ে রয়েছেন মহিলারা। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রাণ বাঁচবেন, সেই প্রশ্ন করছেন তাঁরা। শান্তি চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানুষের ভয় কাটাতে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন পুলিশ কর্মীরা। বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে। গাড়ি, বাইক জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বহু মানুষ। ঘটনাস্থলে রয়েছে একাধিক উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসাররা।