রাজীব চৌধুরী,মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ-গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে, ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা! লেভেল ক্রসিংয়ে ওপরে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় বেঘোরে প্রাণ গেল একাধিক পড়ুয়ার। মৃত্যু হল এক সাইকেল আরোহীরও। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫। মৃতদের মধ্যে ৪ জনই স্কুলপড়ুয়া। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

Continues below advertisement

আহত পুলকার চালকের পরিবারের দাবি, একটি ট্রেন যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় স্কুলগাড়িটি রেললাইন পার হতে গেলে উল্টোদিক থেকে দ্রুতগতিতে আরেকটি ট্রেন এসে ধাক্কা মারে। আহত গাড়িচালকের ভাইয়ের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের গাফিলতিই দায়ী।

প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে হল এই দুর্ঘটনা? ব্যক্তিকেন্দ্রিক গাফিলতি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি? এ বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, যে গেটম্যান, সে মূল অপরাধী, সে কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করে রেলগেট খুলে দিয়েছে। ভারতবর্ষে হাইড্রোজেন ট্রেন চলছে, বুলেট ট্রেন চলছে ... বেসিক পরিকাঠামোটা গড়ে তুলতে হবে। কেন এখানে কর্মচারী খুলে দিল? তাহলে কি সে ট্রেনড্ নয়?  তাঁকে কি কোনও ক্যাসুয়াল রাখা হয়েছে? এটা মূলত রেলের সুরক্ষার প্রশ্ন। '               

Continues below advertisement

ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুদার বলেন, ' দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জীবনহানি তো অত্যন্ত কষ্টের, কিন্তু বাচ্চাদের জীবনহানি মানে বিরাট ব্যাপার। কী হল, কেন হল, তার তদন্ত হবে। রেলও তদন্ত করবে আশা করি। '

ঘটনার পর অভিযুক্ত গেটম্যানকে সাসপেন্ড করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে আরও এক রেলকর্মীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল। অন্যদিকে, পুলিশ অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এই গেটম্যান নেশাগ্রস্ত ছিল। 

রেল সূত্রে খবর, কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলপুলকারটিকে ধাক্কা মারে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সংঘর্ষের অভিঘাতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়  ৩ জনের। পরে হাসপাতালে আরও  ২ জনের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছে রেল ও রাজ্য সরকার। রেলের পক্ষ থেকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফেও পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থা, গেট খোলা-বন্ধের সময়সূচি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।