অশান্ত মুর্শিদাবাদ থেকে এক কাপড়ে মালদায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল একাধিক হিন্দু পরিবার। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান থেকে বৈষ্ণবনগরের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন হিন্দু। পালিয়ে আসা হিন্দুদের এমনটাই অভিযোগ। এও বলা হয়েছে যে তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুকুরের জলে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের সহযোগিতায় কোনও রকমে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন ৭৭টি পরিবার।
সেই হিন্দু পরিবারদের সঙ্গে এদিন দেখা করতে মালদার বৈষ্ণবনগরের ত্রাণ শিবিরে যান সুকান্ত মজুমদার। আর সুকান্তকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঘরছাড়ারা। তাঁদের উপর কী অত্যাচার হয়েছে, কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে জিনিসপত্র, সেই কথা সুকান্তকে জানান ঘরছাড়ারা। 'কী অবস্থা বাংলার, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডাকে জানাব', ত্রাণ শিবিরে গিয়ে জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
সংবাদমাধ্যমকে সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'প্রশাসনকে অনুরোধ করব যতক্ষণ না এঁদের সুরক্ষা রাজ্য সরকার দিতে পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত এদের ওখানে যেন না নিয়ে যাওয়া হয়। সুরক্ষা দিলে তবেই নিয়ে যাওয়া উচিত। অন্যায় কাজ করছে এঁরা আর কথা শুনতে হচ্ছে আমাদের। কেন এই ঘটনা ঘটছে সেই জবাবদিহি করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী। মুর্শিদাবাদ-মালদার একাংশকে বাংলাদেশে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দরকারে আদালতে যাব। মা বোনদের সম্মান রক্ষা করতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও ঠিকভাবে ব্যবহার করছে না রাজ্য।'
প্রসঙ্গত, বিজেপি মালদায় কন্ট্রোল রুম খুলছে। দুর্গতরা সেখানে ফোন করলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জানানো হবে, তারপর ওই সব এলাকায় পৌঁছবে BSF, প্রতিশ্রুতি সুকান্ত মজুমদারের।
যদিও মুর্শিদাবাদ-মালদাজুড়ে দুর্গতদের বাড়ি ফেরার ছবি পোস্ট করেছে কলকাতা পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম বলেন, 'মুর্শিদাবাদ-মালদা জুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ঘরছাড়ারা ধীরে ধীরে ঘরে ফিরে আসছেন। জঙ্গিপুরে ধীরে ধীরে দোকানপাট খুলছে'। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, গত ৩৬ ঘণ্টায় মুর্শিদাবাদে অশান্তির খবর নেই। দুশো জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। ঘরছাড়াদের মধ্যে ১৯ জন ফিরে এসেছেন। আরও শতাধিক ব্যক্তি শীঘ্রই ফিরবেন। পুলিশ, বিএসএফ, সিআরপিএফ মোতায়েন রয়েছে।