সুতি: ওয়াকফ বিরোধীবিক্ষোভে জ্বলছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে গুলিবিদ্ধ তিন জনেরই মৃত্যু। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে আরও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সুতির সাজুর মোড়ে গুলিবিদ্ধ কিশোরের মৃ্ত্যু হয়েছে সেখানে। কেন্দ্রীয় সরকার যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন পাস করেছে, সেই নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরও মিলেছে। সেই আবহেই এবার একজন গুলিবিদ্ধের মৃত্যু হল। বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হল বাবা ও ছেলের। (Murshidabad Anti Waqf Law Protests)

শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে কলেজে ভর্তি করা হয় গুলিবিদ্ধ কিশোরকে। অস্ত্রোপচার হলেও, তাঁর অবস্থা এত খারাপ হয় যে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ডও। কিন্তু শনিবার দুপুরে শেষ পর্যন্ত মারা গিয়েছে ওই কিশোর। অন্য দিকে, সামশের গঞ্জে বাড়ির মধ্যে থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বাবা ও ছেলেকে।  দেহে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে খবর। জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে দু'টি দেহ। (Murshidabad News)

সামশেরগঞ্জে দীর্ঘ সময় বাড়িতে ওই বাবা ছেলের দেহ পড়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দেহ দু'টি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু'টি জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁদের কুপিয়ে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। অন্য দিকে, সুতির সাজুর মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয় ওই কিশোর। সুতিতে গতকাল দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হল। 

ওয়াকফ আইন বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে মুর্শিদাবাদ যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, সেই নিয়ে আজ শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্ররোচনায় পা না দিতে আর্জি জানান। কেন্দ্রের আইন এ রাজ্যে প্রযোজ্য হবে না, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকলে সেখানে বলতে হবে বলে জানান তিনি। এর পাল্টা মমতাকে কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অরাজকতার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনা নামানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেই নিয়ে শনিবার বিকেল ৪টে বেজে ৩০ মিনিটে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হতে চলেছে। বিচারপতি সৌমেন সেন, বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং পুলিশের অক্ষমতাকে তুলে ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো দাবি তুলেছেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তি হচ্ছে, হিংসা ছড়াচ্ছে, রাজ্য এবং পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি শুভেন্দুর।

মুর্শিদাবাদ তথা গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো ছাড়া উপায় নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। শুভেন্দুর আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাই ছুটির দিনেই শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর কিছু ক্ষণ পরই সেই নিয়ে নির্দেশ দিতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট।