কলকাতা : মুর্শিদাবাদ থেকে অনেক আক্রান্ত যেমন একদিকে মালদার বৈষ্ণবনগরের স্কুলের ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তেমনই অনেকে আশ্রয়ের খোঁজে পৌঁছে গিয়েছেন ভিন রাজ্যে। ঝাড়খণ্ডের ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। চোখেমুখে এখনও আতঙ্কে । সেদিনের কথা মনে পড়লে, এখনও তাঁরা আতঙ্কে শিউরে উঠছেন।
সেদিনের ঘটনার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে এক ঘরছাড়া বলেন, "হঠাৎ কিছু লোক আমাদের বাড়ির উপরে চড়াও হয়। ইট-পাটকলে যা আছে, লাথির পর লাথি। প্রাণ বাঁচাতে কী করব ভেবে পাচ্ছি না। কোনও রকমে একটা রুমে সবাই মিলে...কাকা-জেঠু সবাই ছিল। একটা রুমে কোনও রকমে আশ্রয় নিই। জানালা-দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল। কেউ বলছে আগুন লাগিয়ে দে। রুখতে আর পারলাম না। এর মধ্যে আমার এক খুড়তুতো ভাই বেরিয়ে গিয়ে বলে, আমাদের কী ভুল হয়েছে ? যদি কোনও অন্যায় করে থাকি তো ক্ষমা করে দে। ওরা বলে, তোদের কোনও ক্ষমা নেই। এক একজনকে কাটব। ১০০ নম্বরে ডায়াল করেও...রাত দেড়টার সময় বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এসেছি।"
অপর এক বয়স্ক মহিলা বলেন, "মুসলিম বন্ধুগুলোই আমাদের বাঁচিয়েছে। নয়তো আমাদের ...বাড়িতে আগুন লাগাতে পারেনি। ওরাই আমাদের সাহায্য করেছে। নয়তো আমাদের সব শেষ করে দিত। আলমারি ভেঙেচুরে, টাকা-পয়সা-গয়না, ওখানেই আমার দোকান। আমি একাই থাকি। বিএসএফ আমাদের হেল্প করল। ওরাই নিয়ে এসেছে। ওখানে খুন হয়েছে, তাই আরও ভয়ে পালিয়ে এলাম। মুসলমান ছেলেরাই আমাকে হেল্প করেছে। তারপর টুকটুকিতে আমরা চলে এলাম।"
এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের ঘটনায় NIA তদন্তের দাবিতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আগামীকাল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ৩০০টি পরিবারকে ঘরে ফেরাতে দু'টি আবেদন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
ওয়াকফ-বিক্ষোভে অশান্ত মুর্শিদাবাদ। প্রাণ গেছে ৩ জনের। আতঙ্কে ঘরছাড়ারা কেউ পালিয়ে গেছেন মালদায়, কারও ঠাঁই হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। এই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ সপ্তাহের মধ্য়ে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দিতে হবে। মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ওই প্রতিনিধিদল রিপোর্ট জমা দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে NHRC-র তরফে জানানো হয়েছে।