কলকাতা: একদিকে হিংসার আগুন জ্বলছে সেই সুযোগে শপিং মল থেকে জিনিসপত্রও দেদারে লুঠ চলছে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে একাধিক অশান্তির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। মুর্শিদাবাদ পৌঁছে সামশেরগঞ্জ থানায় বৈঠকে বসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-র সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সেখানে তিনি মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করার জন্য বলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যকে সবরকম সাহায্যয়ের আশ্বাস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের, খবর সূত্রের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, হিংসা কবলিত মুর্শিদাবাদে স্থানীয় ভাবে মোতায়েন ৩০০ BSF জওয়ানের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধে আরও ৫ কোম্পানি BSF জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শান্তিরক্ষায় পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ যখন আসে তখন আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালত নির্দেশ দিলে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি একযোগে শান্তি রক্ষায় কাজ করে তাহলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।
দফায় দফায় অশান্তি, সংঘর্ষ, শনিবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান এবং সুতি। অশান্ত মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই প্রাণ গেছে ৩ জনের। জাফরাবাদে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে কুপিয়ে খুন করা হল বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে। অভিযোগ, জানানোর পরও, ৪ ঘণ্টা বাদে গ্রামে আসে পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই ধুলিয়ান পুরসভা এলাকায় একের পর এক বাড়ি, দোকানে শুরু হয় ভাঙচুর। গতকাল এই ধুলিয়ানেই ট্রাফিক গার্ডে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে গুলিবিদ্ধ হয় ১২ বছরের এক কিশোর ও ২১ বছরের এক যুবক মইনুদ্দিন শেখ। গুলিবিদ্ধ যুবকের পরিবারের অভিযোগ, গুলি চালিয়েছে BSF। সংশোধিত ওয়াকফ আইন ঘিরে অশান্তির জেরে মুর্শিদাবাদে যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সুতির বাসিন্দা এক কিশোর। শুক্রবার এই সুতিতেই অশান্তি আগুন থেকে রেহাই পায়নি সরকারি বাস থেকে অ্যাম্বুল্যান্সও কিছুই!সেসব এলাকায় শনিবার সকাল থেকেই থমথমে পরিবেশ। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
