কলকাতা: পয়লাবৈশাখে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করতেই শুভেন্দুর নিশানায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মূলত এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাগানের অংশ উদ্ধৃত করে লেখেন, 'আমি বাংলায় গান গাই।' আর এরপরেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও সোশ্যাল পোস্টে নিশানা করে লেখেন, 'রোম যখন পুড়ছিল, সম্রাট নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন।' !

আরও পড়ুন, পিঠ ফুঁড়ে দড়ি বেঁধে হচ্ছিল ঘোরানো, আচমকাই চড়ক ভেঙে ছিটকে পড়ল ২ ভক্ত ! ভয়াবহ দুর্ঘটনা বাঁকুড়ায় গাজনে..

এদিন পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,' বাংলা দিবসে সকল নাগরিককে জানাই শুভনন্দন। ছোটছোট ভাইবোনদের জানাই শুভেচ্ছা। আরও বিকশিত হোক, রাজ্যের ঐতিহ্যময় সংষ্কৃতি। আরও সুদৃঢ় হোক রাজ্যবাসীর ভাতৃত্ববন্ধন।' এরপরেই শুভেন্দু তীব্র কটাক্ষ করে লেখেন,' রাজ্যে যখন সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন জ্বলছে আপনিও গান গাইবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে গানের সুরটা বেসুরো হয়ে গেল !' বিরোধী দলনেতার সংযোজন, নাগরিকদের শুভনন্দন জানানোর আগে, যে সকল বরাহ-নন্দন দাঙ্গা করছে, সরকারি সম্পত্তি পোড়াচ্ছে, খুন করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, রাজ্যে নাগরিকরা নিজেদের সরক্ষিত মনে করত।'

প্রসঙ্গত,  নববর্ষের সকালে এদিন তমলুকে শোভাযাত্রায় অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির থেকে বর্গভীমা মন্দির পর্যন্ত হবে শোভাযাত্রা। নববর্ষে শুভেন্দুর হাতে 'হাল ফেরানোর খাতা'। 'সবাই নিজেদের হাল ফেরানোর সঙ্গে রাজ্যের হাল ফেরানোর প্রার্থনা করুন', এই রাজ্য বেহাল, তমলুকে নববর্ষের মিছিল থেকে তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর। বর্গভীমা মন্দিরে 'হাল ফেরানোর খাতায়' সিঁদুর লাগালেন শুভেন্দু। 

অপরদিকে, তৃণমূলকে নিশানা করে পয়লা বৈশাখে পথে বিজেপি। সাংস্কৃতিকসেলের তরফে নববর্ষের শোভাযাত্রায় চমক। ট্যাবলোতে উঠে এসেছে DA থেকে শুরু করে RG কর-কাণ্ড এবং ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দর বাড়ি পর্যন্ত যাবে বিজেপির এই শোভাযাত্রা।সামিল হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। নববর্ষের সকালে রবীন্দ্রসঙ্গীতের বদলে বোমা-গুলির শব্দ, কটাক্ষ প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের। 

আজ পয়লা বৈশাখ। ১৪৩১-কে বিদায় জানিয়ে বাংলা ক্যালেন্ডারে নতুন বছর ১৪৩২। নতুন পোশাক, গঙ্গাস্নান, দোকানে দোকানে হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে। সঙ্গে শুভেচ্ছা-মিষ্টিমুখ-গান আর জমজমাট আড্ডা। নববর্ষের আবাহনে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া নতুন বছরের আনন্দ। কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, লেক কালীবাড়ি থেকে তারাপীঠ, সকাল থেকে মন্দিরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন।