নদিয়া: গতকাল গুলিবিদ্ধ হন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা কনস্টেবল বিভাস ঘোষ। সেসময় চাকদা রোডের দশ মাইল এলাকায় ডিউটি করছিলেন।গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে কাছে ছিল না বন্দুক, তাহলে কীভাবে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হলেন স্বামী ? বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বড় প্রশ্ন কনস্টেবলের স্ত্রীর !

আরও পড়ুন, অনুব্রতর পাশে নেই হুমায়ুন ; 'কখনও কোনও অফিসারকে এভাবে আক্রমণ করিনি..' !

এইমুহূর্তে তিনি কলকাতার SSKM হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্য়ে আসতেই পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নার্ভের ওষুধ খাচ্ছিলেন বিভাস। আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নাকা চেকিংয়ে থাকা কনস্টেবল। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ জখম কনস্টেবলের স্ত্রী। ইতিমধ্যেই তিনি বড় প্রশ্ন তুলেছেন। এনেছেন বিস্ফোরক অভিযোগ।

স্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, বিভাস (গুলিবিদ্ধ কনস্টেবল) আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন না। তার উপর তিনি যখন নাকাচেকিং করছিলেন, সেসময় স্বামীর কাছে কোনও বন্দুক ছিল না। বিভাস মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছে, এই খবর দেয় পুলিশই। গোপালনগরের কনস্টেবলকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি  গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হুগলির পুলিশ অফিসার। মধ্যরাতে শিবপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন চণ্ডীতলা থানার IC, রক্তাক্ত সঙ্গিনী।সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল চণ্ডীতলা থানার IC-কে। তারপর থানার দায়িত্বে ছিলেন CI চণ্ডীতলা। প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগের ভিত্তিতে শিবপুর থানায় FIR। কী কারণে মধ্যরাতে অস্ত্র নিয়ে শিবপুরে হুগলির পুলিশ অফিসার? কীভাবে চলেছিল গুলি? সার্ভিস রিভলভার থেকেই গুলি? সঙ্গে ছিল কারা? জানতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। 

গত কয়েক বছরে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তেইশ সালে পুরুলিয়া পুলিশ লাইনে গুলিবিদ্ধ হয়ে কর্মরত এনভিএফ কর্মীর মৃত্যুতে হয়েছিল। মৃতের নাম সুশীল কিস্কু।  প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নিজের সার্ভিস রাইফেলের গুলিতেই প্রাণ গিয়েছিল তাঁর।ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছিল সেই তথ্য।জানা গিয়েছিল সুশীল পুরুলিয়া পুলিশ লাইনে সেন্ট্রির ডিউটি করছিলেন। সূত্রের খবর, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নিজের বন্দুক থেকে  গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। কিন্তু কী কারণে এই পথ তিনি বেছে নিলেন? তা জানতে তদন্তে নেমেছিল পুলিশ।

অতীতে নিউটাউনে টেকনো সিটি থানার পুলিশ ব্যারাকে অ্য়াসিস্ট্য়ান্ট সাব ইন্সপেক্টর অভিজিৎ ঘোষের সার্ভিস রিভলভার থেকেও চলেছিল গুলি। সাব ইন্সপেক্টর কৌশিক ঘোষের পায়ে গুলি লেগেছিল। সল্টলেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অভিযুক্ত ASI-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনাবশত গুলি চলেছিল নাকি বিবাদের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছিল? খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।

হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল, কৌশিক ঘোষের বাঁ পায়ের আঘাত গুরুতর হলেও অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনার দিন টেকনো সিটি থানার অফিসার্স ব্যারাকের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছিলেন ডিসি নিউটাউন। পুলিশ সূত্রের খবর এসেছিল, অভিজিৎ ঘোষ আগে ছিলেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফে। এসটিএফের একাধিক অপারেশনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।