সুজিত মণ্ডল, নদিয়া : নদিয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের দাদাকে। অভিযোগ শুক্রবার ভোরবেলা ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির গাছ থেকে ফুল তুলতে গেলে, মহিলাকে চোর সন্দেহে হেনস্থা করা হয়। অপমানে পরদিনই আত্মঘাতী হন ওই গৃহবধূ। মৃতার পরিবারের FIR-এ ৪ জনের নাম থাকলেও, আপাতত গ্রেফতার ১। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে ক্লোজ করে তদন্ত করছে শান্তিপুর থানা। বাকি ২ অভিযুক্ত পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ফুল চোর সন্দেহে কান ধরে ওঠবস করানোর অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন গৃহবধূ। নদিয়ার সেই ঘটনায় এবার অভিযুক্ত প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পাশাপাশি, ধৃতের ভাই, পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ারকে ক্লোজ করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত, শুক্রবার ভোর ৪ নাগাদ। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে শান্তিপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার মিলন করাতির বাড়ির বাগান থেকে ফুল তুলতে গেলে গৃহবধূকে চোর বলে ধাওয়া করা হয়। এমনকী সবার সামনে কান ধরে উঠবসও করানো হয়। শনিবার সকালে ঘরের মধ্যে মহিলার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই মৃতার পরিবারের তরফে প্রতিবেশী সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই ঘটনারই তদন্তে নেমে রবিবার সিভিক ভলান্টিয়ারের দাদাকে গ্রেফতার করল শান্তিপুর থানার পুলিশ। ক্লোজ করা হয়েছে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে। যদিও ওই সিভিক ভলান্টিয়ার দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি নাকি বাড়িতেই ছিলেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন শান্তিপুর থানায় ডিউটিতেই ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার মিলন করাতি। তবে মৃতার পরিবারের FIR-এ অভিযুক্ত হিসাবে তাঁর নাম থাকায়, ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে ক্লোজ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ারের দাদাকে গ্রেফতার করা গেলেও, পলাতক বাকি ২ অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছে শান্তিপুর থানা।
পূর্ব মেদিনীপুরে চিপস চোর অপবাদে নাবালকের মৃত্যুর পর মাত্র দু'মাস পেরিয়েছে। এবার ফুল চোর অপবাদে এক গৃবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল নদিয়ায়। ফের অভিযোগের আঙুল উঠল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল নদিয়ার শান্তিপুর। অভিযোগ, সামান্য ফুল তুলতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয় গৃহবধূকে। পরিবারের দাবি, সেই হেনস্থাই কেড়ে নিল তাঁর জীবন। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার ঘটনায় ১২ বছরের বালককে চোর অপবাদ দিয়ে মারধর থেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে শুভঙ্কর রক্ষিত নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, অপবাদ সহ্য করতে না পেরে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয় নাবালক। নদিয়াতেও উঠেছে একইরকম অভিযোগ।