সুজিত মণ্ডল, শান্তিপুর: শান্তিপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ ঘোষ মার্কেট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে প্রায় ১৫টি ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির মধ্যে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নাম থাকায় বিষয়টি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Continues below advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গলে ভোটার কার্ডগুলি পড়ে থাকতে দেখে প্রশান্ত মণ্ডল বিষয়টি বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পিকুল বিশ্বাসকে জানান। পরে খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্ডগুলি উদ্ধার করে। তাদের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, উদ্ধার হওয়া কিছু কার্ডের ঠিকানা, তারিখ এবং আবেদন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। কারও দাবি, আবেদন করার আগের তারিখের কার্ড পাওয়া গিয়েছে; আবার কেউ জানিয়েছেন, নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করলেও সেই কার্ড তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে কার্ডগুলি কীভাবে ওই জঙ্গলে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- নেতাজির উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্যে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে FIR দায়ের 

তবে ভোটার কার্ডগুলির প্রকৃত উৎস, কীভাবে সেগুলি সেখানে এল এবং কোনও অনিয়ম ঘটেছিল কি না, এসব সবকিছুই এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনিক তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছে স্থানীয় মহল।

এর আগে কিন্তু এ বছরের মে মাসেও এমন ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছিল নানুরে। ভোটের পরপরই ওই ঘটনা ঘটেছিল। পশ্চিমপাড়ার মাঠে একশোর বেশি ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। কার্ডগুলি পূর্ব বর্ধমান জেলার চিনিসপুর মল্লিকপাড়ার ভোটারদের বলে স্থানীয়রা সেইসময় দাবি করেছিলেন।

ভোটার কার্ডগুলি দেখতেই সেবারও থানায় খবর দিয়েছিল স্থানীয়রা। জানা গিয়েছিল এই ভোটার কার্ডগুলি হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলার চিনিসপুর মল্লিকপাড়ার ভোটারদের। তাহলে এই কার্ডগুলিল সেখানে কী করে এল, সেই সময়ও সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতে তখন হঠাৎ করেই একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী আসেন। এবং পরিচয় দেন, তিনি বিএলও ছিলেন এই পার্টে। কিন্তু পরিবর্তী ক্ষেত্রে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। এই কার্ডগুলি তাঁর কাছে সংশোধনের জন্য এসেছিল। কিন্তু তারপর তিনি আর জমা দেননি। এখানেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

বিধাননগর এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকেও উদ্ধার হয়েছিল প্রচুর আধার কার্ড। বিধাননগরের বাসন্তী দেবী কলোনির ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ৫০ টিরও বেশি আধার কার্ড। তাই এবারের শান্তিপুরের ঘটনা কিন্তু প্রথম বা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।