সুজিত মণ্ডল, নদিয়া : সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল হলেও, আদালতের নির্দেশেই বহাল থাকল বীরভূমের বাসিন্দা ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি। মানবিক কারণে তাঁকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনামায়। কিন্তু চাকরি বাঁচেনি নদিয়ার বীরনগর হাইস্কুলের সোমনাথ মালোর। গত কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত এই শিক্ষাকর্মী। চাকরি হারিয়ে মাথায় হাত তাহেরপুরের ক্যান্সার আক্রান্তের।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর চাকরিহারা প্যারা অ্যাথলিট
সোমনাথের আরেকটি পরিচয় হল, তিনি একজন স্বর্ণপদকজয়ী ক্রীড়াবিদ। বুশান প্যারা এশিয়ান গেমসের হাই জাম্পে ভারতের হয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক। ২০১৬ সালের প্যানেলে শিক্ষা কর্মী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন নদিয়ার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা পোলিও আক্রান্ত সোমনাথ মালো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর চাকরিহারা প্যারা অ্যাথলিট। গত কয়েকবছর ধরেই পোলিও ছাড়াও ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি।
একসময় বিশ্ব দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। বুশান প্যারা এশিয়ান গেমসের হাই জাম্পে ভারতের হয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক। তাও স্পোর্টস কোটায় চাকরি হয়নি। ২০১৬ সালের প্যানেলে শিক্ষা কর্মী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন পোলিও আক্রান্ত সোমনাথ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই প্যারা অ্যাথলিট আজ চাকরিহারা।
চিকিৎসা চলবে কীভাবে? খাবেন কী?
একে পোলিও , তার উপর ব্লাড ক্যান্সার। চিকিৎসা চলবে কীভাবে? খাবেন কী? পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? মাথায় হাত। তাহেরপুরের দু’কামরার অপরিসর ঘরে বসে তাই অঝোরে কেঁদে চলেছেন সোমনাথ। বললেন, ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি যদি বহাল থাকে, তবে আমার ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নিয়ম? আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে চাই, তিনি বিচারব্যবস্থার কাছে আমার চাকরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরুন। না হলে স্ত্রী সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর উপায় নেই।
২০১৬ সালে শিক্ষকর্মী হিসাবে সোমনাথ নিয়োগ পেয়েছিলেন পার্শ্ববর্তী বীরনগর হাই স্কুলে। প্রায় সাত বছর সেখানে চাকরি করেন। মারন রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সম্বল ছিল চাকরির বেতনটুকুই। বৃহস্পতিবার আচমকা বদলে যায় জীবন। এই অবস্থায় আর পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সোমনাথ চান সোমা দাসের মত তার চাকরি ও বহাল থাকুক। আর সেই ব্যবস্থা করুক সরকার। একই আবেদন তার স্ত্রী সন্ধ্যা মালো-র।