বিটন চক্রবর্তী, নন্দীগ্রাম : নামেই উপনির্বাচন, কিন্তু এই ভোট ঘিরে যা শুরু হয়েছে, তা নির্বাচনকেও হার মানাবে! ভোটের ১৮ দিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। গ্রেফতার করা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের অনুগামীদের। আর এবার নন্দীগ্রামে ২ কংগ্রেস নেতাকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের হয়ে প্রচার করায় সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস ও মানিক ফকির নামে ওই ২ কংগ্রেস নেতাকে চণ্ডীপুরের হোটেল থেকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার নিন্দা করে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, শুধুমাত্র কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করায় ওই ২ কংগ্রেস নেতার ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে বাংলার গণতন্ত্র আজ অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তবে কী কারণে ওই ২ প্রচারক-কংগ্রেস নেতাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। নন্দীগ্রাম থানায় ওই ২ নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, এখন থানাতেই রয়েছেন মানিক ফকির।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার রাজ্য় সরকার অন্তর্বর্তী জামিনের বিরোধিতা করলেও তা মানেনি আদালত। তবে ২১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে।
নন্দীগ্রামের কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পত্র জমা দেন মিলন প্রধান। এরপর ২০০৭ সালের একটি মামলায়, ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে তাঁর জামিনের আর্জির শুনানি হয়। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি। ২১ অক্টোবর ফের তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। জামিনের খবর উচ্ছ্বাসে মাতেন কংগ্রেস কর্মীরা। এরই মধ্যে আবার নন্দীগ্রামে ২ কংগ্রেস নেতাকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের ছাপ কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ৪ অক্টোবর অবধি চলবে প্রচার।
