কলকাতা: নন্দীগ্রাম শহিদ দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর। 'ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলব না নাকো নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম সহ পৃথিবীর সকল শহিদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি', সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আরও পড়ুন, '..এই আন্দোলনে তৃণমূলও ছিল, বিজেপিও ছিল', 'নন্দীগ্রাম দিবস'-এ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর
২০০৭-এর ১৪ মার্চ, পুলিশের গুলি চালানো...ওই বছর ১০ নভেম্বর, ‘অপারেশন সুর্যোদয়ে’র দিন ভূমি-উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে সিপিএমের সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের এই জনপদ।নন্দীগ্রাম আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। একসময়ের সহযোদ্ধা আজ প্রতিপক্ষ... এখন নন্দীগ্রাম দিবসে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল ও বিজেপি। সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আপনি ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। শহিদ পরিবারের লোকেদের ডেথ সার্টিফিকেট দেননি। আপনি অল্প ভোটে হেরেছিলেন। বলেছিলেন বড় শহীদ বেদী, স্কুল হবে কিন্তু হয়নি । আপনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি সবার। আপনি ভাইপোর পিসি হতে পেরেছেন। আপনি মৌলবাদীদের নেত্রী হতে পেরেছেন, কিন্তু আপনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী...।
পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, আজকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে যে সিপিএম নেতারা অত্য়াচার করেছিল আন্দোলনকারীদের ওপর, গ্রামবাসীদের ওপর, ভূমি-উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য়দের ওপর, সেই সিপিএম পার্টির নেতারাই কিন্তু আজকে নন্দীগ্রামে বিজেপির নেতা। সেই নেতাদের নিয়ে এসে উনি এখানে মালা দিচ্ছেন শহিদবেদীতে। ২০১১ সালের পর, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে যে সার্বিক উন্নয়ন ঘটেছে, বাংলার ১০ কোটি মানুষ সেটা জানে। এটা যাঁরা চোখে দেখতে পান না, তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়েছে, এটাই বলতে হবে।এদিন গোকুলনগর পেট্রোল পাম্প থেকে কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করেন শুভেন্দু অধিকারীরা। শহিদ বেদিতে মালা দেন। বিজেপির কর্মসূচির পর শহিদ বেদি ধুয়ে নতুন করে সাজান তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে SIR ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির সংঘাত সপ্তমে চড়েছে। এদিন শুভেন্দু বলেন, 'আসল পরিবর্তন ১১ সালে হয়নি। আমরা ভুল করেছি, একজন পরিবারবাদী, দুর্নীতিগ্রস্থ, বেকারদের সর্বনাশকারী, হিন্দু নিধনকারী, এবং কার্যত উত্তর কোরিয়ার প্রশাসকের মতো, প্রতিহিংসাপরায়নকারী, তাঁকে এখানে মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে আমাদেরও অবদান ছিল। স্বীকার করি, আমরা ভুল করেছি। জনগণকে নিয়ে আমরাই আসল পরিবর্তন আনব।' এই আবহে এবার নন্দীগ্রাম দিবসের মঞ্চ থেকে আসল পরিবর্তনের ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।