কলকাতা : ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসানের পিছনে যে আন্দোলনের নাম বারবার উঠে আসে, তা হল নন্দীগ্রাম। ২০০৭ সালের সেই জমি আন্দোলনই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের ভিত্তি তৈরি করেছিল। আর সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) । প্রায় দু’দশক পরে সময়ের চাকা ঘুরে আজ তিনিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর শপথ গ্রহণের পর নন্দীগ্রামের শহিদ ও আহত পরিবারগুলির মুখে উঠে এল আবেগ, স্মৃতি এবং আশীর্বাদের কথা।

Continues below advertisement

নন্দীগ্রামের আন্দোলন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রাণ হারান ১৪ জন আন্দোলনকারী। সেই সময় আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আন্দোলনের ময়দানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাই পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক মুখ করে তোলে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রাম আন্দোলনই একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) - র ক্ষমতায় আসার রাস্তা প্রশস্ত করেছিল। তবে ইতিহাসের সমাপতন হল, সেই নন্দীগ্রামেরই ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন।

Continues below advertisement

‘যোগ্য নেতা ছিল’, শুভেন্দুকে ঘিরে আবেগ ফিরোজা বিবির গলায়

নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নিজের সন্তান শেখ ইমদাদুল ইসলামকে হারিয়েছিলেন ফিরোজা বিবি। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কও হন। কিন্তু এত বছর পরেও আন্দোলনের স্মৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের।

শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে বলতে গিয়ে ফিরোজা বিবি বলেন, “শুভেন্দু না এলে তো আমরা বেরোতে পারতাম না। যোগ্য নেতা ছিল। ভাল কাজ করলে পুরস্কার তো পাবেই। তুমি মানুষের মঙ্গল করো, মানুষ যেন না কাঁদে।” 

তিনি আরও বলেন,“আমার ছেলে যখন মারা যায়, আমি ওনাকে রাজার আসনে বসিয়েছিলাম। আমি ওঁকে রাজা বলতাম, শুভেন্দু বলতাম না। আশা এটুকু উনি যেন সসম্মানে রাজধর্ম পালন করেন। শুভেন্দু অধিকারীকে আমার আশীর্বাদ জানাবেন।”

‘২০০৭ সাল থেকে পাশে আছে’, দাবি শহিদ পরিবারের

নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নিহত প্রলয় গিরির দাদা পলাশ গিরির কথাতেও উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আস্থা। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলিকে নিয়ে পরে আর ততটা ভাবা হয়নি। পলাশ গিরি বলেন, “এখনও অবধি ৫টি পরিবার কর্মসংস্থান পায়নি। ২০১১ সালের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবারের জন্যও শহিদ স্মরণসভা করতে আসেননি। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারী শহিদ পরিবারের পাশে আছে। সুখ-দুঃখের উনি সাথী। আমরা খুব গর্বিত যে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।”

‘উনি আমার ছেলের মতো’, বলছেন আহত আন্দোলনকারী

নন্দীগ্রামের ভাঙাবেড়ার বাসিন্দা হৈমবতী হালদার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এখন বয়স সত্তর পেরিয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁর কথায় স্পষ্ট শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আবেগ। তিনি বলেন, “উনি আমার ছেলের মতো। সব বিপদে-আপদে আমায় দেখে। আমিও সবসময় শুভেন্দুবাবুর পাশে আছি। সেদিন যোগ্য লোকের হাতে আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল। সেই জন্য তো উনি আজকে মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন।”

দেড় দশক পর ফের নন্দীগ্রামেই রাজনৈতিক বার্তা

২০১১ সালের পরিবর্তনের অন্যতম প্রতীক ছিল নন্দীগ্রাম। আর প্রায় দেড় দশক পরে সেই নন্দীগ্রামের আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই ফের বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। এখন নন্দীগ্রামের শহিদ ও আহত পরিবারগুলির একটাই আশা— আন্দোলনের সময় যেমন পাশে ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও শুভেন্দু অধিকারী যেন তাঁদের ভরসার জায়গা হয়ে থাকেন।