কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে অনেক দিন ধরেই নানা ভাবে বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন বহুবার। এবার ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে সময় বেঁধে দিয়ে খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লিখলেন, 'এবার বিজেপি সরকার'।
সুদীর্ঘ চিঠিতে লিখেছেন স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের নাম। এরপর এসেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গও। কিছুদিন আগে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তাঁর নামের আগে 'স্বামী' শব্দ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তা নিয়ে বাঁধে বিস্তর রাজনৈতিক কাজিয়া। তা-সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গবাসীকে লেখা চিঠি ভরা রইল বাঙালি মনীষীদের নামে। 'স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের মতো যুগ পুরুষরা যে পশ্চিমবঙ্গের স্বপ্ন দেখেছিলেন...তা আজ ভোটব্যাঙ্কের সংকীর্ণ রাজনীতি, হিংসা, নৈরাজ্যে জর্জরিত। এটা আমার কাছে এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। আজ এই পুণ্যভূমি অনুপ্রবেশ ও নারী নির্যাতনে কলঙ্কিত। কবিগুরুর সোনার বাংলায় আজ ভুয়ো ভোটারের দাপট। নৈরাজ্যের অন্ধকারে ডুবতে থাকা পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে আজ সারা দেশ চিন্তিত', লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী লিখলেন, 'আর মাত্র কয়েক মাস, তারপরেই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে চালিত হবে, আপনাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল । স্বপ্নের সোনার বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা আজ চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁদের যন্ত্রণায় আমার হৃদয়ও আজ ভারাক্রান্ত। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমি একটিই সংকল্প গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করে তোলার সংকল্প। '
প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়ে পশ্চিবঙ্গের ৫ কোটি মানুষকে বিবিধ প্রতশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'রাজ্যের চরম অসহযোগিতা সত্ত্বেও জন-ধন যোজনায় উপকৃত হয়েছেন পশ্চিবঙ্গের ৫ কোটি মানুষ। স্বচ্ছভারত অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ শৌচালয় নির্মাণ হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গের রুগ্ন ও জীর্ণ দশা দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত। গত ছয় দশকের অপশাসন ও তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিবঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন যুবকরা। নিরাপত্তার অভাবে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা শঙ্কিত। ' বিধানসভা ভোটের আগে এবার 'পরিবর্তন যাত্রা' বের করতে চলেছে বিজেপি। আগামী পয়লা মার্চ রাজ্যের ৯ জেলার ৯ জায়গা থেকে পরিবর্তন যাত্রা বের হবে। সূত্রের খবর, ৫ বা ৬ মার্চ কোচবিহারের পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। শেষে ব্রিগেডে সভাও করবে গেরুয়া শিবির। সেখানেও মূল বক্তা প্রধানমন্ত্রী। তার আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি।