উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, সমীরণ পাল: বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলকে টেক্কা দেওয়া তো দূর, মাথা তুলে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি দল। তার মধ্যেও প্রথম বার মাঠে নেমে একটি আসন জিতে নেয় আইএসএফ।  উপনির্বাচনে জিতে খানিকটা হলেও মুখরক্ষা হয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে কংগ্রেস এবং আইএসএফ, যার নেপথ্যে রয়েছেন নৌশাদ সিদ্দিকি এবং কৌস্তভ বাগচি। 

টানা ৪২ দিন জেলে থাকার পর, ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষে ভেঙে যাওয়া গাড়ি নিয়ে বিধানসভায় গেলেন নৌশাদ। তিনি পণ নিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ভাঙা গাড়িই ব্যবহার করবেন। এর দু'দিন আগেই কংগ্রেস নেতা গ্রেফতারির পর জামিন পেয়ে মাথা ন্য়াড়া করে কৌস্তভ পণ নেন যে, তৃণমূলকে উৎখাত না করা পর্যন্ত তিনি মাথায় চুল গজাতে দেবেন না। এই সিদ্ধান্তে তিনি পাশে পেয়েছেন প্রেমিকা প্রীতি করকেও। 

বঙ্গ রাজনীতিতে এই তরুণ দুই তুর্কির উপরই এখন বাজি ধরছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ ৪২ দিন জেলে কাটিয়ে, সদ্য় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মধ্য়রাতে বাড়িতে হানা দিয়ে কৌস্তভকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পণ করেছেন দু'জনই। 

গত ২১ জানুয়ারি, আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসে তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। নৌশাদ এলাকায় গেলে তাঁর গাড়ির উপর তৃণমূল হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ইটের আঘাতে তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।এর পর ISF-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে, ধর্মতলা চত্বর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে, সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ-সহ আরও অনেক ISF নেতা কর্মীকে। নৌশাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় হয়। যার জেরে ৪২ দিন ধরে জেলবন্দি ছিলেন তিনি। কংগ্রেস নেতা কৌস্তভের গ্রেফতারি ঘিরে যে দিন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, সে দিনই প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। এর পর, সোমবার প্রথম বিধানসভায় পৌঁছন নৌশাদ। তা-ও সেই ২১ জানুয়ারি ইটের ঘায়ে, কাচ ভাঙা গাড়িতেই। প্রশ্ন করলে বলেন, "যতদিন পর্যন্ত না আমার ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাচ্ছেন, যতদিন পর্যন্ত না পুলিশ অফিসাররা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাচ্ছেন এবং যতদিন পর্যন্ত না এই সরকারের পতন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই গাড়িই আমি চালাব। এই গাড়ি পাল্টাব না। মানুষ দেখুন, এ রাজ্যে বিরোধী বিধায়কের কী হাল।"ঠিক এর দু'দিন আগেই তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের পণ করে করে, মাথা ন্য়াড়া করেছিলেন কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ। এই সিদ্ধান্তে তিনি পাশে পেয়েছেন প্রেমিকা প্রীতিকে। প্রীতি বলেন, "সব সিদ্ধান্তে পাশে আছি। একসঙ্গে আইনি লড়াই করছি। এই অবস্থায় ছাদনাতলায় যেতেও রাজি।" কৌস্তভ জানান, চুল খুব প্রিয় তাঁর। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। প্রেমিকাকেই বলেছিলেন নাপিত ঠিক করতে। এর আগে মমতা সরকারকে উৎখাতের পণ করে ২০২০ সালে মাথা ন্য়াড়া করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু পরে পিছু হঠেন। ২০২১ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল। সৌমিত্রও ফিরে যান চুল গজানোর পথে। এ বার কৌস্তভ এবং নৌশাদ কি তাঁদের পণ রাখতে পারবেন? সেটাই দেখার।