নয়াদিল্লি : শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে আসছে নতুন আইন। প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, সোমবার সংসদে পেশ করা হবে এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল ‘পাবলিক এগ্জামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬'। লোকসভায় বেলা ১২ নাগাদ এই বিল পেশ করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং । সূত্রের খবর, সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের হবে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সংস্থান রয়েছে। সেই সঙ্গে বিলে ১০ কোটি টাকা জরিমানা, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারের সংস্থান থাকছে। ৩ মাসের মধ্যে শেষ করা হবে শুনানি, এমন প্রস্তাবনাও থাকছে সংশোধিত বিলে। 

Continues below advertisement

সূত্রের খবর, নিটকাণ্ডে সোমবারও উত্তপ্ত হতে পারে সংসদের দু'কক্ষ । লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইতিমধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা বা মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিয়েছে একাধিক বিরোধী দল । 

এ বিষয়ে কী জানালেন, অধুনা এনসিপিআই সাংসদ সায়নী ঘোষ ? কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্রের সাংসদ বলেন, “শুরু থেকেই আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। বিরোধী দল এই বিষয়ে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক ছিল; আমরা আশা করব যে তারা সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং যেভাবে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মতামত শোনা হয়েছে, তা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। একজন সাংসদ হিসেবে আমি আশা করব যে এই বিষয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা হবে।”  

Continues below advertisement

অন্যদিকে এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, মহুয়া মৈত্র বলেন, "আমার মনে হয় না সরকার এখন আমাদের কিছু বলার মতো অবস্থানে আছে। আমার মনে হয়, আমরা যা দেখেছি তা হলো একমাত্র পদক্ষেপ – ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যা যথেষ্ট দেরিতেই হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জবাব দেওয়া । বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে আমরা এটা মেনে নিতে পারি না ...শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং আমাদের সন্তানদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাদের ওপর পেলেট গান ও বৈদ্যুতিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তারজন্য কেউ কোনো জবাব দিচ্ছে না। । আমরা গতকাল বিহার ও  পশ্চিমবঙ্গে দেখেছি যে প্রতিবাদীদের চিহ্নিত করে পুরো পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে এবং ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। '

‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, প্রশ্ন ফাঁস, উত্তরপত্রে কারচুপি, কম্পিউটার হ্যাকিং, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্ন বা উত্তর ছড়িয়ে দেওয়া ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠিত চক্র, সংস্থা বা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে এই বিলে। সংসদে নতুন এই বিলটি পেশ করার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের। বিলে বলা হয়েছে-প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা জরিমানা। বিচার হবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে । ৩ মাসের মধ্যে শেষ করা হবে শুনানি।