NEET-এর প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে বাড়ছে আন্দোলনের ঝাঁঝ। একের পর এক রাজ্যে ছড়াচ্ছে পড়ুয়াদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বিহার, থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাতেও ধুন্ধুমার।
পাটনার ডাকবাংলো মোড়ে উত্তেজনা, পুলিশের উপর ইটবৃষ্টি। বিহারের ছাপরা, সাসারামেও বিক্ষোভকারী-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ। ছাপরায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম। ঔরঙ্গাবাদে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ।
এমনকী, গুজরাতের সুরাতেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা
প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে উত্তাল দেশ। গতকাল দ্বিতীয় বৈঠকেও মেলেনি সমাধান। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় ককরোচ জনতা পার্টি। এই প্রেক্ষাপটে আজ দুপুরে ফের বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় সরকার ও CJP। এই বিষয়ে, সিদ্ধান্তের জন্য শনিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকের পর দাবি করলেন ককরোচ জনতা পার্টি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। গতকালের মতো আজও কথাবার্তা হবে বলে জানিয়েছেন জেপি নাড্ডা।
মোদি সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের ৩টি দাবি। এক, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই, NEET-এর প্রশ্নফাঁসের ফলে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য। তিন, আন্দোলনকারীদের উপর থেকে FIR তুলে নেওয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্য়াগের দাবিতে মুখে কুলুপ এঁটেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে শুক্রবার নিষ্ফলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনকারীদের বৈঠক।
NEET-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলছে লাগাতার আন্দোলন। পুলিশ সূত্রে দাবি, সারা দেশ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ এসে জড়ো হয়েছেন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে প্রায় ৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত CJP-র আন্দোলনে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩০ জন পুলিশকর্মী। অন্তত ৬৫ জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। বিক্ষোভের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৫টি FIR দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরে আসা সমাজবিরোধী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম বা FRS ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে চিহ্ণিতকরণের কাজ। ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরে আসা কমপক্ষে ২ হাজারেরও বেশি এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে, গতকালের মতো আজও রাজধানীতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা করল দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে, মান্ডি হাউসের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে DMRC. তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট-এর মতো স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ অর্থাৎ লাইন পরিবর্তনের পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
