কলকাতা: ধর্মতলায় NEET বিক্ষোভ চলাকালীন তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল আরও ২ অভিযুক্তকে। ধৃতদের মধ্যে একজন কড়েয়ার ব্রাইট স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা বছর ৩৫-এর ওয়াকার আজম। গ্রেফতার হওয়া আরেক অভিযুক্ত বছর ৩২-এর জাভেদ আখতারের বাড়ি নাদিয়াল থানা এলাকায়। পুলিশের জালে ওই ২ জন ধরা পড়ায় ধর্মতলায় ধুন্ধুমারকাণ্ডে গ্রেফতারি বেড়ে দাঁড়াল ১৬-তে।  

Continues below advertisement

পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে তাণ্ডবে অভিযুক্তরা কেউই ছাত্র নন। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃতরা কেউই ছাত্র নন, কিন্তু সকলেই এসেছিলেন শুক্রবারের মিছিলে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ গোটা ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাঁরা, দাবি পুলিশের।

Continues below advertisement

এদিকে, ধর্মতলাকাণ্ডে ধৃতদের কয়েকজনের তৃণমূল-যোগ? অভিযুক্তদের অন্যতম মহম্মদ আফরোজের ছবি পাওয়া গেল মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক খালেক মোল্লার সঙ্গে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের একজনও নন ছাত্র। ছাত্র না হলেও, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের অনেকের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ পাওয়া গেছে। যাঁদের মধ্যে একজন হলেন মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা মহম্মদ আফরোজ।

এই আফরোজের বিরুদ্ধেই উঠেছে তৃণমূল-যোগের অভিযোগ। গ্রেফতারির পর সামনে আসছে তাঁর একের পর এক ছবি আর রিলস্ ভিডিও। যার একটিতে দেখা যাচ্ছে মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার নির্বাচনী প্রচারের গাড়িতে উত্তরীয় পরে দাঁড়িয়ে আফরোজ। যদিও ধৃত আফরোজকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেছেন মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক। 

শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় এই আফরোজের নাম। শনিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করা হয় আফরোজকে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িতে করে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। কোনও ছবিতে আবার তৃণমূলের পতাকা হাতে মিছিলের সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে আফরোজের মুখ। আবার কোথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে তৈরি পোস্টারেও দেখা যাচ্ছে এই মহম্মদ আফরোজের ছবি। শুধু তৃণমূল বিধায়কের পাশে নয়, একটি রিলসে ধৃত আফরোজের হাতে দেখা যাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র! কোথাও নিজেকে 'ডন' বলে পরিচয় দিচ্ছে মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত এই আফরোজ। ধর্মতলায় হামলাকাণ্ডে ধৃতদের মধ্যে আরও একজন হলেন জামির আহমেদ। যদিও ছেলে কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন মা।