সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি: নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হুগলির দম্পতি । গত শুক্রবার ২১ তারিখে দুপুরে বাড়ি থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে ছিলেন। এরপরেই আর কোনও খোঁজ মেলেনি হুগলির উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী পান পাড়া বাইলেনের ক্ষিতীশ চন্দ্র বিশ্বাস এবং মমতা বিশ্বাসের। তাঁদের বয়স ৬১ বছর এবং ৫৯ বছর।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, মঙ্গলবার রাতে শেষবার কথা, কৈলাস-মানস সরোবর বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, বেড়াতে খুব ভালোবাসতেন দুজনেই। বাড়িতে পুজো পাঠ নিয়ে থাকেন। ক্ষিতীশ চন্দ্র বিশ্বাস রেলে কর্মরত ছিলেন। বছর তিনেক আগে ভলেন্টিয়ার অবসর নিয়েছেন। ১৮ বছর আগে এক মেয়ে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায়। বাড়িতে দুজনেই থাকতো। এখনও ঘরে তালা বন্ধ। প্রতিবেশীরা বলেন, খুব ভালো মানুষ দুজনেই ছিলেন।

বুধবার সকালের জল-প্রলয়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে নেপালের ৮টি জেলার একাধিক জায়গা, ক্রমেই লম্বা হচ্ছে মৃত্যু মিছিল। নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় এক হাজার জন। পুরু কাদার নীচে ডুবে রয়েছে জাতীয় সড়ক। কাঠমাণ্ডুর সঙ্গে ৬টি জেলাকে যোগ করে যে লাইলাইন সেই পৃথ্বী হাইওয়ে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। পৃথ্বী হাইওয়ে নিয়ে এই হাইওয়ে এসে মিশেছে ধাদিং গ্রামে। সেই গ্রামে গিয়ে দেখা গেল ভয়ঙ্কর ছবি।জল চলে গেছে মাটি জমে আছে। হড়পা বানে  নেপালের যে সব জেলাগুলি ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধাদিং।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিব্বতের দিকে পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলেই বুধবার ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়।ভূবিজ্ঞানীদের ধারণা, হিমবাহ ধসের কারণে তিব্বতের লেন্দে নদীতে পড়ে প্রবাহ আটকে দেয়।ফলে নদীর ওই জায়গায় জমতে থাকে জল এবং এক সময় তা প্রবল বেগে নীচের দিকে ধেয়ে আসে।সঠিক কারণ, নিয়ে যখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন একটি উপগ্রহের তোলা ছবি প্রকাশ করেছে ISRO.যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে হিমবাহ ভাঙার আগের ও পরের ছবি।বুধবারের হড়পা বানের ধাক্কায় বিপর্যস্ত এভারেস্টের দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লি-কাঠমাণডু আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা।যা পরিচিত ‘ইন্দো-নেপাল মৈত্রী বাস সেবা’ নামে। নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু ভারতীয়।বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত নেপাল থেকে ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।এর মধ্যে ত্রিশূলি-১ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় এবং কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।তবে এখনও ২৮৯ জন ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের অবস্থান জানতে এবং নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেছে বিদেশমন্ত্রক।