নয়াদিল্লি: বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপালে মৃত্যুমিছিল, এখনও পর্যন্ত ৭৬৮ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষের খোঁজ মিলছে না। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "এত সাহস ! আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেবেন", যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Continues below advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবারের বিপর্যয়ে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাসুয়ায়। তারপর নুয়াকোটে। ধ্বংস হয়ে গেছে সব বাড়ি-ঘর। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকাল থেকে এলাকায় ওড়ানো হয় ড্রোন। দেখা হয় যে সব জায়গায় এখনও পৌঁছনো যায়নি, সেই জায়গাগুলির কী অবস্থা? নুয়াকোটের ড্রোন ওড়ানো নিয়ে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের খবরের আশায় সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন হাসপাতালে।

রসুয়া থেকে ১৮৩ জনকে উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। এখনও নিখোঁজ ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নতুন করে ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে নেপালে। নেপালে আটকে থাকা ৫০ জন ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এর মধ্য়েই সামনে এল নুয়াকোটের ছবি, লন্ডভন্ড ঘর-বাড়ি। জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ, রাস্তায় পুরু কাদার স্তর। আকাশপথে চলছে ড্রোনে নজরদারি চলছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, নেপালের চিতওয়ান থেকে সবথেকে বেশি পরিমাণে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুর ১ টার সময়, নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম জানিয়েছে, আড়াই হাজারের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। যে দেহগুলিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি, সেই দেহগুলিকে নেপালের ২১ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দ্রুত চিহ্নিতকরণের চেষ্টা চলছে। 

বিপর্যয়ের মধ্যেই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আবহবিদদের অনুমান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে নেপালের বিপর্যস্ত এলাকায়। এরই মধ্যে রবিবার সকাল থেকে বাড়তে শুরু করে ভোতেকোশি নদীর জল।আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

 প্রশাসন সূত্রে খবর,  নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছেন এ রাজ্যের ৩৭ জন।  তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের প্রণবানন্দ সরণির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও শিক্ষিকা স্ত্রী মৌ মণ্ডলের। বসিরহাটেরই পোদ্দার দম্পতি যখন কপাল জোরে বেঁচে ফিরেছেন, তখনও খোঁজ নেই মণ্ডল দম্পতির। অন্যদিকে, এই প্রেক্ষিতে এবারের পুজোর ছুটিতে নেপাল ভ্রমণ বাতিল করছেন বহু পর্যটকরা। বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থা যাত্রীদের জন্য টিকিট কাটলেও চাপে পড়ে তারা ট্রেন এবং বিমানের টিকিট বাতিল করছে। এই আতঙ্ক, এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও খোঁজ মিলছে জীবনের। চলছে অলৌকিক-উদ্ধার। সেনা জওয়ানরা নতুন জীবন দিয়েছেন এক শিশুকে।