সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায়, জয়ন্ত পাল, কলকাতা: নিউটাউনে, কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এক টোটোচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। কিন্তু অভিযুক্ত কি একাই ছিল? না, সঙ্গে আরও কেউ ছিল? উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একজন অপরাধীও যেন ছাড়া না পায়, দাবি নিহত কিশোরীর মা-বাবার। 

মাত্র ১৪ বছর বয়স! অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত! সবে জীবনটা চিনতে শুরু করেছিল...তখনই শেষ হয়ে গেল সবকিছু! নিউটাউনে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। CC ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে, সৌমিত্র রায় ওরফে রাজ নামে এক টোটো চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গোটা ঘটনা একাই ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে ধৃত।

কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, টোটো চালকের একার পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব? সত্য়িই কি সে একা ছিল? সঙ্গে আর কেউ ছিল না? এই বিষয়ে ওই কিশোরীর বাবা বলছেন, 'CCTV ফুটেজে যতগুলো প্রমাণ পাওয়া গেছে, সব ও একাই ছিল। আর শেষে একাই যখন ওইখানে জঙ্গলে নিয়ে গেছিল, সেটা একা ছিল কিনা, ওটা এখনও পরিষ্কার করেনি। ও (অভিযুক্ত) স্বীকারোক্তি দিয়েছে, যে, 'আমি (অভিযুক্ত) করেছি এই ঘটনা। আমি (অভিযুক্ত) ঘটিয়েছি।''

এরপরে এবিপি আনন্দের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়, অভিযুক্ত আপনাদের ওই এলাকারই বাসিন্দা? নিহত কিশোরীর বাবা বলছেন, 'এই এলাকার বাসিন্দা নয়। ও (অভিযুক্ত) নদিয়া জেলার ছেলে। এখানে টোটো চালাচ্ছে ভাড়া ঘরে থেকে।'এবিপি আনন্দের তরফ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়, 'একে কি চিনতেন আপনারা?'নিহত কিশোরীর বাবা বলেন, 'না, এখানকার বাসিন্দা নয়। ও (অভিযুক্ত) সম্প্রতি এসেছে।'

পুলিশ সূত্রে দাবি, CCTV ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, টোটোর চালকের পাশের সিটেই বসেছে কিশোরী। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পিছনের আসনে আর কেউ ছিল? এবিপি আনন্দকে নিহত কিশোরীর মা বলছেন, 'আমি চাই তার ফাঁসি হোক। যারা, যে টোটোচালক করেছে, সে তো, এর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, যেন একটা অপরাধীও বাদ না যায়। প্রত্য়েকের যেন ফাঁসি হয়। আমি এটা দাবি করছি। ' এবিপি আনন্দের তরফে প্রশ্ন করা হয়, টোটোচালক একাই যুক্ত? না আরও কেউ যুক্ত বলে মনে হয়? নিহত কিশোরীর মা বলেন, 'মনে তো হয়। একার দ্বারা এটা সম্ভব নয়।'

কিন্তু প্রশ্ন হল,অত রাতে নাবালিকাকে নিয়ে টোটো চালক এভাবে ঘুরে বেড়াল...কী করে? কারও চোখে পড়ল না? রাস্তায় পুলিশের নজরদারি কি ছিল না? এবিপি আনন্দের তরফ থেকে প্রশ্ন রাখা হয় আপনার কী মনে হয়? 'পুলিশ তদন্ত করবে? নাকি অন্য় কোনও এজেন্সি তদন্ত করবে?' এবিপি আনন্দর তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল, 'কী দাবি করছেন প্রশাসনের কাছে?' নিহত কিশোরীর বাবা বলছেন, 'প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, ওর ফাঁসি তো আগেই হোক। সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্য়বস্থা আরও কঠোর হোক। এরকম ঘটনা যেন দ্বিতীয়বার না ঘটে। যদি এরকম ঢিলেমি করে তো, আমার মেয়ে আজকে এরকম হয়েছে, আবার পরের মাস কী, এক মাস, ২ মাস পরে আবার একটা এরকম হতেই থাকবে, হতে হতে হতে হতে, অপরাধ এতই বাড়বে, ওই লোকটা ওকে বলেছে যে, আমি তোর বাড়ি চিনি। রাস্তাও চিনি। চল, তোর বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। স্বীকারোক্তিতে তাই বলেছে।'

ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে।