বারাসাতে ২ জন নার্স সম্ভবত নিপায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর সামনে আসতেই এই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।  আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে কোনও রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। আস্তে আস্তে বিকল হয় মাথা। শ্বাসযন্ত্র কাজ বন্ধ করে দেয় প্রায়। এতটাই মারাত্মক নিপা ভাইরাস। এই ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হয়ে নিস্তার নেই বললেই চলে। ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ মারা যান এই অসুখে আক্রান্ত হলে। আর আরও আতঙ্কের বিষয়, এর কোনও ভ্যাকসিন নেই , নেই কোনও নির্দিষ্ট ওষুধও নেই।  তাই সকলেই জানতে চাইছেন, কী কী উপসর্গ দেখে চিনবেন নিপার সংক্রমণ? কী কী করলে নিপার হানা থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব কিছুটা । নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কী কী করা উচিত? চিকিৎসকরা বলছেন, শুয়োর পালন ও শুয়োরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যে কোনও ফল ভাল করে ধুয়ে খেতে হবে। একই সঙ্গে N-95 মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরের খাবার থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। 

Continues below advertisement

কিন্তু মনে রাখত হবে, সরাসরি শুয়োর কিন্তু নিপা ভাইরাসের বাহক নয়। তবে? নিপা ভাইরাস সাধারণত মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না বরং সংক্রামিত প্রাণীর  সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় । যেমন - বাদুড়, শুয়োক, ঘোড়া, ছাগল, কুকুর, বিড়াল অথবা তাদের শরীরের তরল পদার্থ, অথবা দূষিত খাবার/পানীয় । কাঁচা তালের রস বা বাদুড় কামড়েছে , এমন ফলের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়ায়।সংক্রামিত খামার থেকে প্রাপ্ত শুয়োরের মাংস খেলে ভাইরাস ঢুকতে পারে মানুষের শরীরে।  বাদুড় প্রাকৃতিক বাহক। ভাইরাস তাদের লালা, প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুয়োররা দূষিত ফল বা ফলের রস খেয়ে সংক্রমিত হয়। এবার সংক্রতিত শুয়োরের কাছাকাছি থাকা মানুষরা রক্ত, প্রস্রাব, লালা থেকে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। যদিও শুয়োরের মাংস নিজেই প্রাথমিক সমস্যা নয়, তবে সংক্রমিত শুয়োরের মাংস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে তা বাদুড়ের মলমূত্র (মূত্র/লালা) দ্বারা  দূষিত হয়। এর ফলে পরোক্ষভাবে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটে। যদিও সংক্রমিত না হওয়া মাংস খাওয়ার ফলে নয়, বরং সংক্রমিত প্রাণী এবং ফল এবং রস থেকে রোগ ছড়ায়।       

 

Continues below advertisement