কলকাতা: নিপা আক্রান্ত ২ নার্স, সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য । আরও ৭ বাদুড়ের শরীরে নিপা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি। বারাসাতের কাজিপাড়ার পর, কলকাতা বিমানবন্দর ও আলিপুর। কলকাতা বিমানবন্দর চত্বর থেকে ধরা হয়েছিল ৫টি বাদুড়।বিমানবন্দর থেকে ধরা ৪টি বাদুড়ের শরীরেই নিপার অ্যান্টিবডি, খবর সূত্রের। আলিপুর এলাকা থেকে ধরা হয়েছিল ৭টি বাদুড়। সূত্র মারফৎ খবর, আলিপুরের ৭টির মধ্যে ৩টি বাদুড়ের শরীরে নিপার অ্যান্টিবডি। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এবার দেবাংশু ভট্টাচার্যকে SIR-এর শুনানির নোটিস ! কী লিখলেন পোস্টে ?

Continues below advertisement

নিপা আক্রান্ত দু'জন নার্সের সংক্রমণের উৎস কী? তা এখনও অজানা। সেই উত্তর পেতেই বাদুড়ের সমীক্ষা শুরু হয়েছে।  যেখানে বাদুড়ের নিপা ভাইরাস অ্যান্টিবডি পজিটিভ মিলেছে। অর্থাৎ ওই বাদুড়টির শরীরে আগে কোনও সময় নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল। গত সোমবার কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রক, পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির প্রতিনিধি এবং অন্যরা মিলে বাদুড়ের সমীক্ষা শুরু করেন। সূত্রের খবর, কলকাতা-বসিরহাট রোড সংলগ্ন কুবেরপুর থেকে মোট ৯টি বাদুড় ধরা হয়। সেগুলোর শরীর থেকে ৩ রকম নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সবক'টির RTPCR পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও, একটি বাদুড়ের অ্যান্টিবডি পজিটিভ আসে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ওই বাদুড়গুলোর শরীরে এখন আর নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই। তবে বাদুড়ের সমীক্ষা এখন চলবে বলেই জানা গিয়েছে। নিপা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন তরুণী নার্সের শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। তিনি ভেন্টিলেশনেই আছেন। তবে মেল নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন । আরও একবার RTPCR পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাঁকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।  এই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা লোকজনের যত নুমনা কল্যাণী এইমস এবং বেলেঘাটার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে পাঠানো হয়েছিল, সব রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে, নিপা ভাইরাসের বিষয়টা সামনে রেখে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে সোমবার একটা সেমিনারের আয়োজন করেছিল স্বাস্থ্য দফতরের 'ইনস্টিটিউট অব হেল্থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার'। রাজ্য প্রাণি ও মৎস বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট  সিদ্ধার্থ জোয়ারদার বলেন, দু'জন নার্সের নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা আদতে অতিমারি প্রতিরোধের আগাম প্রস্তুতির অ্যাসিড টেস্ট, নিপা ছাড়াও বাদুড় আরও অনেক মারণক্ষম ভাইরাস বহন করে। তাই বাদুড় থেকে অন্যান্য রোগ ছড়ানোর সম্ভবনা থেকেই যায়। কিন্তু কী ভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে সেটা জেনে রাখা জরুরি।স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে কীভাবে নিপা আক্রান্তের চিকিৎসা করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয় এই সেমিনারে।