প্রকাশ সিনহা, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক নেতা-বিধায়ক মুখ খুলছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এবার মুখ খুললেন বিধায়ক জাভেদ খান। তিনি বললেন, "পার্টির মধ্যে গণতন্ত্র ছিল না। আমাদের বক্তব্য কেউ শুনতেন না। শুনেও কিছু অ্যাকশন হত না। সেইজন্য বেশিরভাগ লোক এটাই বলছেন। বেশিরভাগ আমরা যারা আছি তাঁদের কথা শোনা হত না। শীর্ষ নেতৃত্ব এরজন্য দায়ী, অন্য কেউ দায়ী নন।"
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন ? এর উত্তরে জাভেদ খান বলেন, "আমাদের বলার কোনও জায়গা ছিল না। গণতান্ত্রিক পার্টির মধ্যে কথা বলার একটা জায়গা হবে তো । আমি সেদিন মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে যখন প্রশ্ন করেছি, আমাদের পার্টির স্ট্যান্ড কী হবে ? কোনও উত্তর নেই। উত্তর না পেলে আমরা কী করব। আমি বলেছি, রেড রোডে নমাজটা বন্ধ হয়ে যাবে। করতে দেবে না। পুলিশ বলছে, এখন অনুমতি দেবে না। আমাকে বলা হয়েছে, জোরপূর্বকভাবে ওখানে নামজ পড়ে নাও। সেটা হয় নাকি। ওখানে জোরপূর্বক করতে গেলে গুলি চলবে। মানুষ মরবে। কে মরবে ? আধ ঘণ্টার জন্য কেন ঝামেলার মধ্যে যাব ? আজ সেইজন্য গণতন্ত্র যেখানে নেই, এরকম ফলের পরে পার্টির কেউ রাস্তায় নেই। আমরা মার খাচ্ছি। আমাদের নামে কেস হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব যারা দেন তাঁরা খবর নিচ্ছেন না, পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। তা আর কী বলব !"
এবিপি আনন্দ : আপনি এত বছরের মন্ত্রী, বিধায়ক...আপনি আজ যে কথা বলছেন যে শীর্ষ নেতৃত্ব কথাই শুনতেন না, কারো কাছে গিয়ে বলার জায়গা ছিল না...আমি যদি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলি, তাঁর কাছেও কোনওদিন বলার সুযোগ পাননি ? বা, এই কথা বা অভিযোগ আজ কেন আনছেন ?
জাভেদ খান : দেখুন আগে, আমরা বলেছি। দিদিও জানেন সব কথা । অনেক জায়গায় দিদি সুরাহা করেছেন। এটা আমি অস্বীকার করব না। কিন্তু, বেশিরভাগ উনি কিন্তু যারা শীর্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের দেখতে বলতেন। তাঁরা উল্টো করতেন। বলবার পরেও কিছু সুরাহা হত না। পার্টিতে যারা ঘিরে রেখেছিলেন, তাঁরা এসব জিনিসের জন্য দায়ী। দিদিকে আজও আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। দিদি আমাদের মাথার ওপরে আছেন।
