কলকাতা: SIR-এ পশ্চিমবঙ্গে 'অযথা তাড়াহুড়ো' করা হয়েছে, মত অমর্ত্য সেনের। তিনি বলেন, 'SIR-এর মতো প্রক্রিয়া সময় নিয়ে করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। নথি জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সংবাদসংস্থা PTI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্তা অমর্ত্য সেন আরও বলেন, ''পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটে এর প্রভাব পড়তে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ভোটার এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য এটা ঠিক নয়।'
উল্লেখ্য, SIR-এ লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য শুনানির নোটিস পান অমর্ত্য সেন। নোবেলজয়ীর বোলপুরের বাড়িতে যান কমিশনের প্রতিনিধিরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নথি নিয়ে আসেন আধিকারিকরা।
অমর্ত্য সেনের বক্তব্য নিয়ে মুখ খুলল CEO অফিস। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের দাবি, ''এখন অনেকেই অনেক কথা বলছেন, সমালোচনা করছেন। শেষে কি হবে, সেটা সবাই দেখুন। শেষে সবাই বলবে, আসলে কি হয়েছে। এত মানুষকে নিয়ে যেভাবে কাজ হয়েছে, তাতে কিছু ভুল ত্রুটি থাকবেই। পৃথিবীর যে কোনও কর্মকাণ্ডে কোনও না কোনও ত্রুটি থাকবে।''
অমর্ত্য সেনকে SIR-এর নোটিশ পাঠানো নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ''এসআইএআর-এ আমি আসতে আসতে শুনছিলাম, অর্মত্য সেনকে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠিয়েছে। অর্মত্য সেন, ভারতবর্ষের জন্য নোবেল জিতে এনেছেন। দেশের নাম যে বিশ্বসভায় বিশ্ববন্দিত করেছে। যাকে দেখে, যার মাধ্যমে, দেশকে লোক চেনে, জানে, যার হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, সেই অর্মত্য সেনকে এসআইআর-এর নোটিস পাঠিয়েছে। যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, সেই বিজেপির ছাইপাশগুলিকে বাংলা থেকে আনম্যাপ করে, চিরতরে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে হবে, এই লড়াই , সেই লড়াই।''
রাজ্যজুড়ে SIR চলছে। শুনানি শুরু হওয়ার পর থেকেই নানারকম অভিযোগ উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। অমর্ত্য সেন একাই নন, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেব থেকে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামিকেও হেনস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে। SIR শুনানিতে ডাকা হয়েছিল অভিনেতা দম্পতি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকারকেও। শুনানিতে ডাক পেয়েছেন যারা, তাঁদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ মানুষও রয়েছেন। তাঁরা কী করে যাবেন শুনানি কেন্দ্রে, তা নিয়ে নির্বাচকন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। তবে ইতিমধ্যেই খুব অসুস্থ এমন ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে কমিশনের প্রতিনিধিদেরকেও।
