উত্তর ২৪ পরগনা: পানিহাটির জমি বিতর্কের মধ্য়েই, এই পুরসভারই অন্তর্গত ঘোলায়, দেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্য়কর ঘটনায় কেঁপে উঠেছে গোটা রাজ্য়। মারা হচ্ছে, দেহ কাটা হচ্ছে, ট্রলি ব্য়াগে পোরা হচ্ছে...ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে...তারপর ধরা পড়ছে! একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় বারবার প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে মানুষ এভাবে নৃশংস হয়ে উঠছে? ঘোলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, রাজস্থানের ব্যবসায়ীকে কি এই বাড়িতেই খুন করা হয়েছিল? নাকি অন্য কোথাও? 

বুধবার রাতে দুই ধৃতকে নিয়ে গিয়ে ট্রলি ব্যাগে দেহ উদ্ধারের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। ট্রলিব্যাগ, নাইলনের দড়ি ও ছুরি কেনা হয়েছিল বড়বাজারের যে যে দোকান থেকে তাও চিহ্নিত করেছন তদন্তকারীরা। কথা বলেছেন দোকানের মালিকদের সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে ঘোলার খেপলির বিল এলাকা থেকে মুখে-হাতে-পায়ে টেপ জড়ানো অবস্থায় ট্রলিব্যাগে উদ্ধার হয় বাঘারাম দেবাসির দেহ।

পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের বাসিন্দা বাঘারাম কলকাতার বড়বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। থাকতেন কলেজ স্ট্রিটের কাছে মেছুয়া পট্টিতে। ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায়, তাঁর দুই বিজনেস পার্টনার কৃশপাল সিং ও করণ সিং-কে গ্রেফতার করে ঘোলা থানা। তদন্তে নেমে জানা যায়,মাস চারেক আগে কৃশপাল ও করণের থেকে ৮ লক্ষ টাকা ধার নেন বাঘারাম। সেই টাকা ফেরত চাওয়াতেই শুরু হয় গন্ডগোল। পুলিশ সূত্রে খবর, বাঘারাম নাকি হুমকিও দিয়েছিলেন দুজনকে। এরপরই পরিকল্পনামাফিক তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে কৃশপাল ও করণ।

আরও পড়ুন, 'পুরভোটে হারিয়েছিলাম, বিধানসভা ভোটেও হারাব', শুভেন্দুর নিশানায় তাপসী !

পুলিশ সূত্রে খবর, চায়ের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে নিস্তেজ করে, বাঘারামের গলার নলি কাটা হয়। এরপর মুখে প্লাস্টিক জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর, দেহ পোরা হয় ট্রলি ব্যাগে। পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ লোপাট করার ছক কষেছিল অভিযুক্তরা। ট্রলি ব্যাগ নিয়ে মুক্তারামবাবু স্ট্রিট থেকে তারা ট্যাক্সিতে করে যায় দমদমের নাগেরবাজারে। সেখান থেকে অ্যাপ ক্যাব বুক করে তারা পৌঁছয় ঘোলায় কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে খেপলির বিলে। ট্রলি ব্যাগ নিয়ে নির্জন জায়গায় যাত্রীদের নামতে দেখে সন্দেহ হয় অ্যাপ ক্যাব চালকের। তিনিই এক অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।কিন্তু নাগেরবাজারে ট্যাক্সি ছেড়ে অ্যাপ ক্যাবে কেন উঠল দুজন? কী উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।