বিধাননগর: বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) তোলাবাজির অভিযোগে রাজারহাটে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। বিধাননগর আদালতে আজ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময়ই উত্তেজনা ছড়ায়। আদালতে পেশ করার জন্য সব্যসাচীকে থানায় থেকে বের করার সময়ই উত্তেজনা ছড়ায়।

Continues below advertisement

বিধানসভার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, তথা বারাসাতের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচীকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ জনগণ। সেখানেই তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম, টমেটো। শুধু পচা ডিম, টমেটো ছুড়েই বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হননি। সব্যসাচীর মুখে গোবর পর্যন্ত লেপে দেওয়া হয়। উঠে চোর চোর স্লোগানও। বাড়তি পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাঁকে কোনওক্রমে থানা থেকে বের করা হলেও, আদালত চত্বরেও উত্তেজনা ছড়ায়। 

পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, বিপুল টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও করছেন। সল্টলেকের এক বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী, তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, এই তৃণমূল নেতা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২.৫ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন। সেই ব্যবসায়ী তাঁকে তোলা দেনও। 

Continues below advertisement

অভিযোগ জানানো ব্যবসায়ী বলেন, 'সব্যসাচী দত্ত ২০১৮ সালে আমার থেকে জুলুমবাজি করে টাকাটা তুলেছিল। মস্তানি করে আমার থেকে টাকাটা তুলেছিল, আমি অভিযোগ করলেও তখন পুলিশ সাহায্য করেনি। তবে এখন সাহায্য করছে। সল্টলেক একটা বাড়ি বানাতে গেলে, বাড়ি ভাঙাতে গেল সব্যসাচীকে টাকা দিতে হয়। আমার থেকে এক কোটি আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছিল। আমি যে কীভাবে বেঁচে আছি, আমিই জানি, আমায় প্রায় মেরে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।'

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাটে পৌঁছয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ, সেখানে এবং পরে থানায় এনে, মোট দুই দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করেছ পুলিশ। 

আরও পড়ুন:- ত্রাণসামগ্রী ফেরত দিতে এবার বারাসাতের বিধায়ককে ফোন প্রাক্তন বিধায়ক চিরঞ্জিতের 

এরপরে আজ সব্যসাচীকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ই শুরু হয় বিক্ষোভ প্রদর্শন, হুলুস্থূল কাণ্ড ঘটে আদালতে তাঁকে প্রবেশ করানোর সময়েও। ডিম হাতে উপস্থিত এক ব্যক্তি তো স্পষ্ট জানিয়েই দিলেন তিনি সব্যসাচী বের হলে আবারও ডিম ছুড়বেন। তাঁর অভিযোগ, 'ওঁর মতো তোলাবাজ লোক গোটা বিধাননগরে একটাও নেই। আমাদের ২১ নম্বরে এমন করেছে যে প্রত্যেকটা বাড়িতে ঘর ছাড়া করে দিয়েছে। এখন সব ভাল সাজছে।' আরেক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ ডেথ সার্টিফিকেট পর্যন্ত চাইতে গেলে তোলা চাওয়া হত। সেই বিক্ষোভকারী বলেন, 'যে কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে তোলা দিতে হয়, এমনকী ডেথ সার্টিফিকেট আনতে গেলেও তোলা চাওয়া হয়, ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়াও ছয় মাস পরে। জীবনভর যেন ওঁ জেলে থাকে, সরকারের কাছে এই আবেদন।' 

এরপর আদালতে তাঁর বিষয়ে কী রায় দেয়, এবার সেটাই দেখার বিষয় হতে চলেছে।