কলকাতা : বেঙ্গালুরু থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা আসাফুল মল্লিক। সূত্রের খবর, ধৃতের সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন TTP-এর যোগ পাওয়া গেছে। TTP-র জঙ্গিরা এই আসাফুলকেই ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য প্ররোচিত করেছিল বলে খবর। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ধৃতের পরিবার। 

Continues below advertisement

শুক্রবারই কলকাতা পুলিশের STF-এর সঙ্গে যৌথ অভিযানে পাকিস্তানের ISI-এর চর সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের STF। এই অবস্থায় এবার বেঙ্গালুরু থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হল এ রাজ্যের আরও এক যুবককে। ধৃত উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা আসাফুল মল্লিক। ইতিমধ্যে ধৃতকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দাবি করা হয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশের তরফে। সূত্রের দাবি, ধৃত বছর ২৫-এর আশাফুল মল্লিকের সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান-পাকিস্তানের সদস্যদের যোগ রয়েছে। TTP-র জঙ্গিরা এই আসাফুলকেই ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য প্ররোচিত করেছিল। 

গরুপাচারের আড়ালে জালনোটের কারবার, ভারতের সিম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচার, ISI চর সন্দেহে ধৃতদের বিরুদ্ধে আর কী কী অভিযোগ 

Continues below advertisement

কীভাবে ধৃত আসাফুল মল্লিকের খোঁজ পেল বেঙ্গালুরু পুলিশ? 

দায়ের হওয়া FIR অনুযায়ী, ১১ অগাস্ট বেলা ১২টার সময় এই আসাফুল মল্লিকের সম্পর্কে তথ্য আসে। বলা হয়, এই যুবক নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই খবর আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আসাফুল মল্লিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সেই জিজ্ঞাসাবাদেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। বেঙ্গালুরু পুলিশ সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-সমর্থিত সংগঠনগুলির প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাবের কথা প্রকাশ করেন আশাফুল মল্লিক। ভারতীয় সেনা ও ভারতের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্বেষমূলক মনোভাব প্রকাশ পায়। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। ধৃতের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে, পাকিস্তানের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, পাকিস্তানের হয়ে ভারত, ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন ধৃত এই যুবক। 

সূত্রের দাবি, সেই ব্যক্তির মাধ্যমেই জঙ্গি সংগঠন TTP-র সঙ্গে আসাফুলের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। TTP-র সদস্যরা ধৃত এই যুবককে ভারতে নাশকতামূলক কাজ চালানোর জন্য প্ররোচিত করে। এর বিনিময়ে আসাফুল মল্লিককে অর্থ ও পরিবারের লোকেদের দেখভালের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ধৃত এই যুবক। ধৃত আসাফুল মল্লিকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার উত্তর যদুরহাটি অঞ্চলে। পরিবারের জানিয়েছে, BA পাস করে একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিলেও সফল হননি এই যুবক। ২০২৫-এর শেষের দিকে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতে শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পরিবার।