ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজমিস্ত্রি-ড্রাইভারি থেকে একলাফে রাজনীতির সিঁড়ি ধরে পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ! বাদুড়িয়া পুরসভার তৃণমূল পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের 'রকেট উত্থান'। তৃণমূল জমানায় কোটি কোটি টাকার মালিক দীপঙ্কর, দাবি স্থানীয়দের। আবাস-চাকরি দুর্নীতি, জমি-বাড়ির বেআইনি কারবারে ফুলে ফেঁপে ওঠেন দীপঙ্কর, অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই গুপ্তধনেরই গতকাল হদিশ মিলেছে পাট খেতে। সোয়া দু'কোটি নগদ ছাড়াও আরও অনেক সম্পত্তি আছে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের। আবাসে দুর্নীতি করে বহু লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান, অভিযোগ গ্রামবাসীদের। 

Continues below advertisement

এই প্রসঙ্গে, বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেছেন, 'এত টাকা রাখার জায়গা নেই। সবাই তো আর পার্থবাবুর মতো ফ্ল্যাট কিনে টাকা রাখতে পারেনি। তাও বাঁচানো যায়নি। আগেকার দিনে আমাদের গ্রামে দেখতাম খড়ের চালে, বাঁশের ফুটোয় টাকা ঢুকিতে রাখত। গরু বিক্রির টাকা, এটা-ওটা ... অনেকের ঘর পুড়ে গিয়েছে, সেই সবও পুড়ে গিয়েছে। এদের কাছেও এত টাকা এসেছে যে রাখার জায়গা নেই। মানুষ জেনে যাবে। এইভাবে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে দুর্দশা হয়েছে। এইসব লোকগুলোকে ভয়ঙ্কর শাস্তি দেওয়া উচিত।' 

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে রাশি রাশি ভোটার ও আধার কার্ড ! মজুত সবুজ-গেরুয়া আবির 

Continues below advertisement

নিজের সহযোগী শামিম গাজির পাট খেতে সোয়া ২ কোটি টাকা লুকিয়ে রেখেছিল তৃণমূল নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। ৫টি গর্ত করে ভাগে ভাগে টাকা লুকিয়ে রেখেছিল বাদুড়িয়া পুরসভার ধৃত চেয়ারম্যান, খবর সূত্রের। পাট খেতের প্রায় ১০০ মিটার ভিতরে গিয়ে টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বালতি, সুটকেস, ব্যাগের মধ্যে আলাদা করে টাকা রাখা হয়েছিল। দূর থেকে টাকা লুকিয়ে রাখার জায়গা চেনার জন্য মাটিতে পোঁতা হয়েছিল লাল পতাকা, খবর সূত্রের। 

আবাস দুর্নীতি, কাটমানি, বেআইনিভাবে জমি কেনাবেচায় অভিযুক্ত বাদুড়িয়ার দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। জমি কিনতে গেলে টাকা, জমি বেচতে গেলে টাকা, সিন্ডিকেটরাজ চালাত দীপঙ্কর, অভিযোগ সিপিএম নেতা অনিমেষ মুখোপাধ্যায়ের। বাদুড়িয়ায় গুপ্তধন রহস্যের পর্দাফাঁস হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ডেরা থেকে প্রথমে ৮০ লক্ষ টাকা, তারপর পাট খেত থেকে ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। সোমবার ধৃত পুর-চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে পুরসভার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৮০ লক্ষ টাকা। রাতভর গোনা হয় সেই টাকা। 

খাস কলকাতায় ফের আক্রান্ত বিজেপি, রড দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ 

বুধবার পাট খেতে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। একের পর এক বস্তা, ট্রলি ব্যাগ, রঙের বালতিতে বোঝাই করে রাখা হয়েছিল গুচ্ছ গুচ্ছ টাকা। মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল লুঠের টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই পাট খেতটি তৃণমূল নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের শাগরেদ শামিম গাজির। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে শামিম গাজিকে। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে পড়ল কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। বস্তা, রঙের বালতি, ব্রিফকেস, ট্রলি ব্যাগে বোঝাই। রাশি রাশি টাকা। বাদুড়িয়ায় গুপ্তধন রহস্যের পর্দাফাঁস হয়েছে।