সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : খুন নয়, বোমা বাঁধতে গিয়েই, বিস্ফোরণে তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজির মৃত্যু হয়েছে। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের পর হাড়োয়ায় তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারের ঘটনায়, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ। অন্যদিকে মঙ্গলবারই উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। নেপথ্যে উঠে এল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ। যা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। যদিও এ প্রসঙ্গে ফোন করা হলে, ফোন তোলেননি মিনাখাঁর তৃণমূল বিধায়ক। 

Continues below advertisement

গত সপ্তাহের বুধবার ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাড়োয়ায় উদ্ধার করা হয় তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ। এর ৬ দিনের মাথায়, রহস্য়ের কিনারা করল বিজয়গঞ্জ থানা। পুলিশের দাবি, বোমা বাঁধতে গিয়েই, বিস্ফোরণে মৃত্য়ু হয় মসিউর কাজির। দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় সঞ্জয় মণ্ডল নামে এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেফতার করেছে পুুলিশ। 

খুন নয়, বোমা বাঁধতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল তৃণমূল নেতা মসিউর কাজির। সেই সঙ্গে জখম অবস্থায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর সহযোগী। ইতিমধ্যেই তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, বিজয়গঞ্জ থানার পশ্চিম বামুনিয়া এলাকায় বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে জখম হন দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি মসিউর কাজি ও তাঁর সহযোগী। দুজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে পালাচ্ছিল বাকিরা। ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে মসিউর কাজির। সেই অবস্থাতেই, সোনাপুকুর-শঙ্করপুর পঞ্চায়েতের ঝুঝুরগাছা এলাকায়, মসিউর কাজির দেহ ফেলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। 

Continues below advertisement

গত বুধবার ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে বিকট বিস্ফোরণ হয়। কয়েক ঘণ্টা পর, উত্তর চব্বিশ পরগনার হাড়োয়ায় রাস্তার ধারে, তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজির দেহ উদ্ধার হয়। প্রশ্ন ওঠে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র আছে? তদন্তে নামে বিজয়গঞ্জ থানা। পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে, ভাঙড়ের পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে, সহযোগী সঞ্জয় মণ্ডলকে নিয়ে বোমা বাঁধছিলেন তৃণমূল নেতা মসিউর কাজি। সেই সময়, কোনওভাবে বিস্ফোরণ হলে গুরুতর জখম হন তাঁরা।

জখম অবস্থায়, দুজনকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বাকিরা। পথেই মৃত্যু হয় মসিউরের। সুযোগ বুঝে, হাড়োয়ার ঝুঝুরগাছার কাছে, তৃণমূল নেতার দেহ ফেলে পালিয়ে যায় অন্যরা। কিছুটা পথ পেরনোর পর জখম অবস্থায় সঞ্জয় মণ্ডলকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। তাঁকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, বিস্ফোরণের তদন্তে মঙ্গলবারও ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়।