অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার : জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাদারিহাট এলাকায় এক রাতে হাতির হানায় মৃত্যু হয়েছে এক শিশু ও মহিলা সহ মোট তিন জনের। পৃথক দু'টি ঘটনায় হাতির হামলায় ওই তিনজনের মৃত্যু হয়। বুধবার রাতে প্রথমে মাদারিহাট মধ্য ছেকামারী এলাকায় বাড়ির সামনে মাকনা হাতির হানায় মৃত্যু হয় কাদের আলি নামে এক ব্যাক্তির। এই ঘটনায় বুধবার ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, মধ্য ছেকামাড়ি এলাকার বাসিন্দা কাদের আলি এদিন সন্ধ্যায় বাজার করে ঘরে ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে আচমকাই এক মাকনা হাতির সামনে পড়ে যান তিনি। এই হাতিটি তাঁর উপর হামলা চালায়। হাতির আক্রমণে কাদের আলি মারাত্মক ভাবে জখম হন। আহত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে। এলাকার বাসিন্দারাই উদ্ধার করেছিলেন তাঁকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কাদের আলিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এরপর গভীর রাতে মধ্য খয়েরবাড়ি এলাকায় বাড়ির উঠোনে দেড় বছরের কন্যা সন্তান লক্ষী মুন্ডাকে কোলে নিয়ে বাড়ির অন্যদের সঙ্গে গল্প করছিলেন তাঁর মা সোনিয়া মুন্ডা। সেই সময় আচমকাই হাতি এসে যায় তাঁদের সামনে। হাতিটি মা ও শিশুকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়ির বাইরে আছড়ে ফেলে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সোনিয়া এবং তাঁর ছোট্ট মেয়ে লক্ষ্মীর। স্বভাবতই মা এবং সন্তানের এ হেন মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে না হতেই এলাকায় হাতির উপদ্রব শুরু হওয়ায় চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দারা। একদম রাস্তার উপর কিংবা বাড়ির মধ্যে চলে আসে হাতিরা। তারপর আচমকাই হামলা চালানো শুরু করে। এক রাতের মধ্যে হাতির হানায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা যথেষ্ট আতঙ্কিত রয়েছেন। এক অজানা আশঙ্কায় দিন গুনছেন সকলে। চিন্তা একটাই, এই বুঝি আবার হানা দিল হাতি। হাতির উপদ্রব উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় নতুন ঘটনা নয়। অনেক সময়েই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে হাতির দল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে আসে তারা। আবার অনেক সময়েই আচমকা সামনে থাকা মানুষের উপর হামলা চালায় হাতির দল। হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও ঘটেছে উত্তরবঙ্গে।