কলকাতা: উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের পর (North Bengal Flood) জোর বিতর্কের মুখে মমতার পুজো কার্নিভাল (Puja Carnival)। কেন বিপর্যয়ের সময় উত্তরবঙ্গে না পৌঁছে, কলকাতায় রেড রোডে পুজোর কার্নিভালে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী ? ইতিমধ্যেই বিজেপির শীর্ষ নেতা-সহ বিরোধীরা এই প্রশ্ন তুলেছে। আজ কারণ দর্শালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee )।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, মিরিক থেকে ফিরেই হঠাৎ আক্রান্ত বিজেপি সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

Continues below advertisement

'কেউ কেউ রাজনীতি করছে, তখন কেন কার্নিভাল হল ? ..'

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কেউ কেউ রাজনীতি করছে, তখন কেন কার্নিভাল হল ? ..পুজোর সময় তো বৃষ্টি হল বলে ক্যানসেল করে দিলাম একদিন। কিন্তু ওই দিন তো সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করা আছে। ইউনিসেফ থেকে শুরু করে কত ফরেন ট্যুরিস্টরা ছিল। ক্যানসেল করা সম্ভব ? প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর তাছাড়া কি, সেদিন যদি আমরা আসতামও, এসে কী করতাম, আমাদের দেখতে গিয়ে, ভিআইপিদের দেখতে গিয়ে, রেসকিউ অপারেশনটা হত না। পুলিশ কাকে সামলাবে ? ফায়ার ব্রিগেড কাকে সামলাবে ? ডিস্ট্রিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাকে সামলাবে ? হোয়াট ইজ দ্য প্রায়োরিটি ? বিপদের সময় মানুষকে উদ্ধার করা, তার পাশে দাঁড়ানো , তাঁকে শিফট করা, তাকে রিলিফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া,  তাকে আশ্বস্থ করা ? নাকি শুধু ভিআইপি ট্রিটমেন্ট করা ? ভিআইপি এর নাম করে কেউ তিরিশটা গাড়ি নিয়ে ঢুকছে, কেউ চল্লিশ গাড়ি নিয়ে ঢুকছে। ভাল রাস্তাগুলি ভেঙে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আরে এটা কাঁচা আছে এখন ! যার জন্য আমি নিজে ট্রাভেল করছি, মাত্র তিনটে গাড়ি...আমার সামনে একটা থাকে, আমি মাঝে থাকি,পিছনের গাড়িটারও আমার দরকার নেই। আমি লোকাল পুলিশকে অ্যালাউ করি না। তাহলে সব জিনিস হয়।'  

' আমি যদি একটা বিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে, চল্লিশটা গাড়ির কনভয় নিয়ে ট্রাভেল করি, তাহলে সেটা কি পাহাড়ে প্রেসার পড়ত না ?'

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,' আমি যদি একটা বিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে, চল্লিশটা গাড়ির কনভয় নিয়ে ট্রাভেল করি, তাহলে সেটা কি পাহাড়ে প্রেসার পড়ত না ? না সমতলে প্রেসার পড়ে না ? এটা আপনারা বলুন তো, আপনারা যারা বাস্তববাদী (সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী)। এবং যার জন্য আমার স্ট্রিক্টলি ইন্সট্রাকশন আছে, যা আমাদের যারাই যাক, তিনটের বেশি গাড়ি ব্যবহার করবেন না।  নিজের একটা, আর সামনে পিছনে বড় জোড় দুটো থাকবে। নো মোর দ্যন দ্যাট। আমরা যে জায়গাগুলি দেখতে গিয়েছিলাম,  আপনারা দেখেছেন গতকালই সঙ্গে সঙ্গে..একদিনের মধ্যে, আমরা তো ঘটনা ঘটার, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে চলে এসেছি। এবার চব্বিশ ঘণ্টা ওদের টাইম দেওয়া হয়েছে টু রেসকিউ। তা না হলে, এই যে যারা বেঁচে ফিরে আসছে, মা মারা গিয়েছে, বাচ্চাটা বেঁচে আছে, দুইজনেই মারা যেতে পারত, এরকম ৬-৭ কেস আপনারা দেখলেন আপনার পরিবারে। সেখানে তো যারা উদ্ধার করেছে, তাঁদের উদ্যোগটা তো প্রশংসার।  আর আমরা যদি তখন চলে আসতাম, যদি আমি বিকেলেও আসতাম, আমাকে নিয়ে বিজি হয়ে যেত অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আমি তো সেটা চাই না। আমরা কেউই চাই না।'

 ' যখন কোনও ঘটনা ঘটে, তখন..'

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,' যখন কোনও ঘটনা ঘটে, তখন সেখানকার মানুষকে, আশ্বস্ত করতে হয়। তাঁদের একটা ক্ষোভ জন্মায়। আমার বাড়ি চলে গিয়েছে, আমার সার্টিফিকেট চলে গিয়েছে। আমার খাবার চলে গিয়েছে। খাব কী ? আমি বাড়ি পাব কোথায় ? আমার রাস্তা নেই। আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তখন মানুষ একটা অসহতায় ভোগে। সেই অসহায় অবস্থা কাটানোর জন্য আমাদের খুব শান্তিপূর্ণভাবে ট্যাকেল করতে হয়। ওখানে আর্গুমেন্ট করতে হয় না।'